খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা জেলার ১৪৫তম জন্মদিন আজ। ১৮৮১ সালের ২৫ এপ্রিল জেলার মর্যাদা দেয়া হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরী। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা ও ভৈরব নদের তীরে এর অবস্থান। নদ-নদী বিধৌত হজরত খানজাহান আলীর (রহ.) স্মৃতি বিজড়িত সুন্দরবনের কোলঘেঁষা অপরূপ এ জেলাটি লম্বা আকৃতির ও চৌকা ধরনের। দেশের প্রাচীনতম নদী বন্দরগুলোর মধ্যে খুলনা অন্যতম।
প্রতিষ্ঠার ১৪৫তম জন্মদিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, খুলনা মেজবানী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা এবং আজ শনিবার শিববাড়ির মোড়ে আয়োজিত সমাবেশ উদ্বোধনের পর নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। সমন্বয় কমিটির অপর এক অংশ গতকাল শুক্রবার শোভাযাত্রার আয়োজন ও কেক কেটে জন্মদিন পালন করে। ছিল উৎসব মূখর পরিবেশ।
চার হাজার ৬৩০ বর্গমাইল এলাকা, ৪৩ হাজার ৫০০ জনসংখ্যা অধ্যুষিত খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাকে নিয়ে ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে খুলনা ছিল যশোর জেলার মহকুমা। এর আগে খুলনা ছিল যশোর জেলার মহকুমা। ব্রিটিশ শাসক ডাব্লিউ এম ক্লে জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কোনো স্থানের ইতিহাস ঐতিহ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে নামকরণের তাৎপর্য নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. সুকুমার সেনের মতে খুলনা এসেছে ‘খুল্লনা’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ক্ষুদ্র নৌকা ভাসে এমন স্থান। এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতে অনেক কিংবদন্তীর কথা প্রচলিত আছে। জনশ্রুতি আছে, ‘খুলনা’ নামের উৎস খুল্লনেশ্বরী দেবী। যিনি ধনপতি সওদাগরের স্ত্রী। খুল্লনার স্মৃতিরক্ষার্থে ভৈরব নদের তীরে তার নামে এক মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। আবার কেউ বলেন, মুসলিম আমলের প্রথমদিকে আরব বণিকেরা এখানে প্রবেশ করে বলত ‘আদ খোলনা’। এই ‘আদ খোলনা’ শব্দ থেকে খুলনা শব্দের উৎপত্তি।