নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যশোরের নৃত্য বিতান। বর্ষবরণকে বর্ণিল করতে, সুরে আর ছন্দে, নৃত্য আনন্দে মাতিয়ে তুলতে ব্যস্ততার যেন অন্ত নেই । শিক্ষার্থী শিল্পীসহ কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মিলেছে এক বৃন্তে।
রমজানের শুরু থেকে ঢিলে ঢালা প্রস্তুতি শুরু হলেও ঈদুল ফিতরের পর এখন তা জোরালো রূপ নিয়েছে। বিকেল গড়াতে না গড়াতেই শুরু হয় নাচের রিহার্সেল আর শেষ হতে রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টা।
মূল অনুষ্ঠান নববর্ষের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ দোসরা বৈশাখ বিকেল চারটা থেকে টাউন হল ময়দানের শতাব্দি বটবৃক্ষ তলে রওশন আলী মঞ্চে।
এছাড়াও পহেলা বৈশাখে সকাল সাড়ে আটটায় সংগঠন কার্যালয়ে থাকছে মিষ্টিমুখের আয়োজন। নাচের মহড়ার আগে সকাল থেকেই আয়োজকদের ব্যস্ততায় একটু বেশি থাকে। আমন্ত্রণপত্র বিলির পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থক করতে নিরলস পরিশ্রম।
একক, দ্বৈত ও সমবেত অন্তত ৪০ টি নাচের কম্পোজিশন চূড়ান্ত থাকলেও প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখেই ২৮ থেকে ৩০ টি নৃত্য পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
জেলা প্রশাসনের বর্ষবরণের প্রস্তুতি সভায় সন্ধ্যার আগে সকল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ভরত নাট্যম, কত্থক, মনিপুরী, সাধারণ নৃত্য এর সাথে বর্ষবরণের নৃত্য থাকছে অনুষ্ঠানে। এতে ছোট বড় দেড়শত শিক্ষার্থী শিল্পী অংশগ্রহণ করবে।
সংগঠনটির প্রাণ পুরুষ নৃত্যজন সঞ্জীব চক্রবর্তীর সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই বর্ষবরণের নৃত্যানুষ্ঠানে তিনি নিজে সহ তার সাগরেদ নৃত্য প্রশিক্ষক সুকুমার আইস, জান্নাতুল সোনিয়া, হোসাইন তারেক ও মেহেদী হাসান নয়ন নৃত্যের তালিম দেয়ার পাশাপাশি নৃত্য মোহড়া পরিচালনা করছে।
নৃত্য প্রশিক্ষক সুকুমার আইস জানান বরাবরের মত এবারেও নৃত্য বিতানের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দোসরা বৈশাখে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান প্রশাসন সন্ধ্যার আগে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবার আদেশ জারি করেছেন। তাই নাচের সংখ্যা কমিয়ে ২৮ থেকে ৩০ টাতে আনা হচ্ছে। বিকেল ৪ টায় শুরু আর ৬ টার সাথে সাথেই অনুষ্ঠানে শেষ হবে। সুকুমার আইস জানান বর্ষবরণ অনুষ্ঠান একদিন পরে হলেও পহেলা বৈশাখের সকালেই সংগঠন কার্যালয় মিষ্টি মুখের আয়োজন রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক আগে থেকেই ঢিলে ঢালা প্রস্তুতি শুরু হয় কিন্তু ঈদের পর থেকে শুরু হয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্ব।