Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন, শোকের মাতম

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬, ১২:৩৬:৫৮ পিএম

বাগেরহাট প্রতিনিধি : খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাগেরহাটের রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর-বধূ ও বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যদের দাফন শেষ হলেও থামছে না কান্নার রোল। নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামের পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। অন্যদিকে কনের পক্ষের নিহতরা হলেন সাব্বিরের নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।
স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আলী আজম বলেন, খুলনা-মোংলা সড়কটি একটি ব্যস্ত মহাসড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ফোরলেন করা হয়নি। যে কারণে প্রায়ই এ সড়কটিতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজট লেগে থাকে। আমরা মোংলাবাসী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে ফোরলেন করার দাবির পাশাপাশি মর্মান্তিক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অপরদিকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)