স্পন্দন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫মিনিটে স্পিকারের আসন খালি রেখে শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে হয় কোরআন তিলাওয়াত। সকাল সোয়া ১১টার দিকে বক্তব্য দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯৭১ সাল থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণ করেন।
স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই সংসদ ‘দেশের মানুষের সংসদ’।
তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই সংসদ, বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশ এবং জনগণের স্বার্থে সংসদকে অর্থবহ করতে চাই।”
বাংলাদেশে ফের কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
স্পিকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সংসদকে সরকার প্রাণবন্ত করে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তারেক রহমান। তিনি তাদের অভিনন্দনও জানিয়েছেন।
সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি
জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের পর এ ঘোষণা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
# দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রপতি
রীতি মেনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে জাতীয় সংসদে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন; বললেন দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণ।
“সেই লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র মেরামতের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই স্লোগানকে উপজীব্য করে দলীয় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসন-এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।”
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, সরকারের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কঠোর হস্তে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
“এই দুইটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।”
সাহাবুদ্দিন বলেন, “তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
“এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
“এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।”
# ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এই সংসদকে মুক্ত করেছিলাম: নাহিদ
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনটি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “৫ অগাস্ট তথা ৩৬ জুলাই আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা এদেশের ছাত্র ও জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এই সংসদকে মুক্ত করেছিলাম।”
নাহিদ ইসলাম জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।
ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচনে জয় পাওয়া নাহিদ বলেন, চব্বিশ মানে কেবল চব্বিশ নয়। তিনি বলেন, এর পেছনে বিশাল ইতিহাস আছে।
তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মোদিবিরোধী আন্দোলন, শরিফ ওসমান হাদি, আবরার ফাহাদ ও ফেলানী খাতুনের মৃত্যুর কথাও স্মরণ করেন।
# খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজারু১ আসনের সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যত আসনেই নির্বাচন করেছেন, সবকটিতেই তার জয় এসেছে।
সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা চলার সময় সালাহউদ্দিন আহমদ কথা বলছিলেন।
দলের প্রয়াত চেয়ারপারসনকে নিয়ে তিনি বলেন, “আজকে সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি মানুষের মাঝে আছেন। তিনি জীবিত থাকবেন গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
# যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাতজনের জন্যও শোক জানাল ত্রয়োদশ সংসদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন নিজামী ও মুজাহিদ। আর সাঈদী ছিলেন সংসদ সদস্য।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওই সাতজনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।
তাদের মধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাঈদী কারাগারে মারা যান। আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ তাদের দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
# আশা করি সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না: স্পিকারকে শফিকুর
সংসদ পরিচালনায় স্পিকার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখবেন না বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বক্তব্যের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান।
তার কথায়, এই সংসদ ‘জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ’।
শফিকুর বলেন, “স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না বলে আশা করি। আমরা মনে করি স্পিকারের কাছে সুবিচার পাব।”
এবারের সংসদে অনেক তরুণ নেতা আছেন জানিয়ে নিজেকেও তরুণ বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলের নেতা।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন।”
স্পিকারের কাছ থেকে কেবল ‘ইনসাফ’ আশা করেন বলে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।
শেষে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে বক্তব্য শেষ করেন বিরোধী দলীয় নেতা।
# রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে বিরোধীদের ওয়াকআউট
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছে জামায়াত জোটের সাংসদরা।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের কার্ড প্রদর্শন করেন।
সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
এ সময় বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন কেউ কেউ দাঁড়ালেও কয়েকজন সদস্য বসে ছিলেন। তবে একে একে সবাই একসময় দাঁড়িয়ে যান। এসময় জামায়াত জোটের সদস্যদের প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে থাকতে দেখা যায়।
এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী একটি বাধ্যবাধকতা।
স্পিকার বলেন, “আমরা সংবিধানের বিধান ও জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনারা খারাপ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না।”
তবে স্পিকারের আহ্বানের মধ্যেই বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
রীতি মেনে প্রথম দিনই জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সূচি প্রকাশের পর থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল জামায়াত জোট।
# সবার আগে বাংলাদেশ, এটা হোক মূলমন্ত্র: স্পিকার
নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার পরেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
স্পিকার হিসেবে রাখা প্রথম বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন “সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।
তার কথায়, এই দেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হল জনগণম আর এই সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক। মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এ সময় । এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
স্পিকার হাফিজ বলেন, “বিভিন্ন সময় স্বৈরশাসকের আগমন ঘটেছে এই দেশে। বাংলাদেশের জনগণ লড়াই করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট জনগণকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। ”
শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ এবং ওয়াসিমের নাম উচ্চারণ করে এই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পিকার।
স্পিকার বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করেন স্পিকার।
এছাড়া নিরপেক্ষতার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
# স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ চালাবেন যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির এমপি মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির এমপি আব্দুল মইন খান, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির এমপি মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের নাম ঘোষণা করে বলেন, “স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে তিনি স্পিকারের আসন গ্রহণ করবেন।”