Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒# প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবীদের বিক্ষোভ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ট্রলি ও হুইলচেয়ার বাণিজ্য বন্ধ করলেন তত্ত্বাবধায়ক

এখন সময়: শনিবার, ৭ মার্চ , ২০২৬, ১১:৫৮:০২ পিএম

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবীদের ট্রলি ও হুইলচেয়ার বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাসপাতাল থেকে দেয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রোগী সেবার নামে তারা বেপরোয়া বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। রোগী ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ট্রলি ও হুইলচেয়ার নিজেদের কব্জায় রেখে দেন। রোগীর স্বজনরা চাইলেও দেননা। রোগী ওঠানো- নামানোর জন্য প্রতিবার তাদের ২০০ টাকা দিতে হয়। এতে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের অর্থবাণিজ্য বন্ধে লিখিত আদেশ দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা শনিবার তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভও করেছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা কর্তৃপক্ষকে চাপে ফেলে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে সূত্রের দাবি। জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া হল দুই ধরনের। একটি হল সরকারের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ ও অপরটি হল ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতি। দুই ধরণের নিয়োগ প্রক্রিয়া না মেনে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালে ৪৪ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়োগ দেয়া হয়। হাসপাতালের সাবেক কর্মকর্তারা অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। তখনকার নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল, শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, আরএমও ওয়াহিদুজ্জামান ডিটু, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা, ভারপাপ্ত প্রধান করনিক আসগর আলী, ওয়ার্ড মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম কাজল, স্টুওয়ার্ড শাহজাহান আলী ও কর্মচারী নেতা নুরুল ইসলাম। গত ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাদেরকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। ৪৪ স্বেচ্ছাসেবী হলেন- হালিমা বেগম, জোতি, বিশ্বজিৎ , আবু মুসা, খাইরুল ইসলাম, আবুল খায়ের, আহাদ আলী, বিল্লাল হোসেন, আব্দুল আলিম, বাবু রাম ঋষি, ছকিনা, আবুল মুনছুর, আয়ুব হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, ঝন্টু, শরিফ হোসেন, স্বপন কুমার, আতিয়ার রহমান, আশরাফুল ইসলাম, কহিনুর খাতুন, ওসমান গনি, শিলা রানী পাল, মুচ্ছাবর, নাজমুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, চান মিয়া, আসমা খাতুন, রোজিনা খাতুন, নার্গিস আক্তার, রওশন আরা, রোকেয়া খাতুন, লাইলী, ফরিদা খাতুন, নুরজাহান বেগম, নাফিছা আক্তার, রেশমা আক্তার, আল আমিন, কহিনুর আক্তার, মনোয়ারা খাতুন, শরিফ হোসাইন, রুপা সরকার, আব্দুল আলিম, এস এম আজমল হোসেন ও আমেনা বেগম। বিগত দিনে নানা অনিয়মের কারণে এদের মধ্যে কেউ কেউ দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের স্থানে নতুন লোক ঢুকানো হয়েছে। বর্তমানে ৪৪ থেকে বেড়ে সরকারি এই হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। তারা স্পেশাল কর্মচারী হিসেবে পরিচিত। স্বেচ্ছাসেবী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দাপটের কাছে হাসপাতালের নিজস্ব কর্মচারীরাও অসহায়। তারা সব সময় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থবাণিজ্যে ব্যস্ত রয়েছেন। অর্থ ছাড়া কোন কাজই করছেন না তারা। কাজ করেই তারা বলেন আমরা বিনা বেতনে কাজ করি। এই বলেই টাকা দাবি করেন। দাবির চেয়ে টাকার পরিমাণ কম হলেই তারা বেঁকে বসেন। রোগীর স্বজনদের গালমন্দ করেন। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব না থাকলেও তাদের অধিকাংশকে হাসপাতালে দেখা মেলে। স্বেচ্ছাসেবীরা কার্ড ঝুলিয়ে প্রতারণায় নেমেছে। তারা গলায় কার্ড ঝুলিয়ে গোটা হাসপাতাল দাপিয়ে বেড়ায়। ওই কার্ড পুঁজি করে রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিক ও ডায়াগস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে তারা। গলায় কার্ড দেখে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কর্মচারী ভেবে প্রতারিত হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহলের সুপারিশ থেকে হাসপাতালে কাজের সুযোগ পেয়েছে এসব বহিরাগতরা। সুপারিশকারীরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে বহিরাগতেদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে হাসপাতালে ঢুকে তারা নেমে পড়েছে প্রতারণায়। আর তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে দেশসেরা এই হাসপাতাল সুনাম হারাচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবীরা হুইলচেয়ার নিজেদের কব্জায় রেখে দেন। রোগী ওঠানামা করার জন্য স্বজনরা হুইলাচেয়ার চাইলেও দেয়া হয় না। কারণ টাকার বিনিময়ে রোগীকে ওঠানো নামানোর কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। রোগী ওঠানো- নামানোর জন্য তাদের প্রতিবার ২০০ টাকা দিতে হয়। জরুরি বিভাগ এবং ওয়ার্ডে আলাদা স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরতরা রোগীকে ভর্তির পর ওয়ার্ডে নিয়ে যান। আর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবীরা ছাড়পত্র পাওয়া রোগী অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীকে নিচে আনার দায়িত্ব পালন করেন। এই কাজের স্বেচ্ছাসেবীরা রোগী প্রতি স্বজনদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করেন। টাকা কম দিলেই করা হয় দুর্ব্যবহার। এছাড়া, রোগীর ক্যাথেটার লাগানো, নাকে নল লাগানো, ওয়াশ করা ও ড্রেসিং বাণিজ্য তো রয়েছেই। তাদের অর্থবাণিজ্যে অতিষ্ঠ রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবীদের অর্থবাণিজ্য নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি আমলে নেন তত্ত্বাবধায়ক ডা.হুসাইন শাফায়াত। তিনি সেচ্ছাসেবীদের বাণিজ্য বন্ধে লিখিতভাবে আদেশ দেন। এই সংক্রান্ত আদেশপত্রের কপি শনিবার প্রতিটি ওয়ার্ড ইনচার্জের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর ওয়ার্ড ইনচার্জরা স্বেচ্ছাসেবীদের সকল বাণিজ্য বন্ধ করতে জানিয়ে দেন। এদিকে, অর্থবাণিজ্য বন্ধের আদেশে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এই আদেশের প্রতিবাদে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তারা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রতিবাদ কর্মসূচির আধাঘন্টা পর তারা দায়িত্বে ফিরে যান। এ সময় স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, সরকারিভাবে তাদের বেতন দেয়া হয়না। রোগীর সেবা করে পাওয়া টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। তাই ট্রলি ও হুইলচেয়ার সার্ভিস দিয়ে টাকা নেয়া বন্ধের আদেশ প্রত্যাহার না করলে তারা আর্থিক সমস্যায় পড়তে হবে। অন্যথায় তাদের মাসিক পারিশ্রমিক ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান স্বেচ্ছাসেবীরা। স্বেচ্ছাসেবকদের নেতা মফিজুল হক সাগর জানান, আমাদের পরিবার ও সংসার আছে। হাসপাতালে কাজ করে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে স্ত্রী সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। হঠাৎ সার্ভিস বাণিজ্য বন্ধ করলে তাদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। ফলে কর্তৃপক্ষের এই ধরণের আদেশ প্রত্যাহার করা উচিত। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করার সুযোগে যথেচ্ছা বাণিজ্য করছেন। তাদের আচরণে রোগী ও স্বজনরা অতিষ্ঠ। শৃঙ্খলা ফেরাতে স্বেচ্ছাসেবীদের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছাসেবীরা তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করার বিষয়টি শুনেছেন। খুলনায় বিভাগীয় মিটিংয়ে থাকায় তাদের সাথে কথা বলতে পারেননি। নিয়মের বাইরে কিছু করতে দেয়া হবে না।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)