নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন-এর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার আদালতের এজলাসে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামলাতে বিচারক তাৎক্ষণিক আদালত মুলতবি করে এজলাস ছেড়ে যান।
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতে নির্দিষ্ট বিচারক না থাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে বলে আইনজীবীরা জানান।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর বলেন- জেলা ও দায়রা আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন বিচার বিভাগীয় মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। এ কারণে তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার এজলাসেই বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। আইনজীবীরা অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত মুলতবি ঘোষণার আবেদন করেন। এ সময় বিচারক আদালত মুলতবি করে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারকের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। আলোচনা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অন্যদিকে, যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন- এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে।
আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম বদলি হয়ে যান। তিনমাস পর ৫ নভেম্বর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলীরও বদলি হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের দিয়ে আশাঅনুরূপ ফল না পাওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
সিনিয়র আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা না থাকায় তিনি পূর্ণাঙ্গ আইনি সেবা দিতে পারে না। এতে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সেবা প্রত্যাশীদের উপর।