Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒সলুয়া বাজারে দুই হত্যা

জমি বিক্রির টাকায় চলতো হামলাকারী পলাশ, পিতাহারা রফিকুলের তিন সন্তান

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি , ২০২৬, ০১:৩৩:৪৯ এম

বিল্লাল হোসেন: যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড (জগহাটি) যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের খুনি আব্দুল আলিম পলাশ একজন মাদকাসক্ত ছিলেন। পিতার রেখে যাওয়া জমি বিক্রি করে চলতো সে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী জোবাইদা খাতুন তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। এদিকে, রফিকুল ইসলামের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। অকালে পিতাহারা হয়েছে তার তিন সন্তান। বুধবার আসরের পর জানাজা শেষে রফিকুল ও পলাশের লাশ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গণপিটুনিতে পলাশ নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাত কয়েকশ’ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বোন পাপিয়া। জগহাটি গ্রামের লোকজন জানান, জগহাটি গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত হযরত মন্ডলের ছেলে পলাশের সলুয়া বাজারে ব্যাগের দোকান আছে। নামমাত্র দোকানটি প্রায় সময় বন্ধ থাকতো। বাবার রেখে যাওয়া জমি বিক্রি করে চলতেন তিনি। মাদকের পিছনে ছুটে লাখ লাখ টাকা নষ্ট করেছেন। তার অত্যাচারে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ট ছিল। কয়েক মাস আগে পলাশ স্ত্রী জোবাইদা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের পাঁচটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পলাশকে ছেড়ে পিতার বাড়ি কমলাপুর চলে গেছেন জোবাইদা। তারা আরও জানান, পলাশকে নিয়ে পরিবারে শান্তি ছিলনা। টাকার জন্য বৃদ্ধা মাকে মারধর করতেন। তাকে নিয়ে রীতিমতো মানসিক দুশ্চিন্তায় ছিলেন পিতা হযরত মন্ডল। ৪ বছর আগে তিনি স্টোক করে মারা গেছেন। এছাড়া পলাশ বিগত দিনে চাচাতো ভাই করিম মোল্যাকেও কুপিয়ে জখম করেছে। পলাশের বাড়িতে দেখা গেছে, এরপরও একমাত্র ছেলে পলাশকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা পরিছন বেগম। কথা বলার সময় নিজের নামটাও বলতে পারছিলেন না তিনি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, তার পলাশকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পাশে বসে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন একমাত্র বোন পাপিয়া। প্রতিবেশী কয়েকজন নারী বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জগহাটি গ্রামের পূর্বপাড়ার রফিকুল ইসলাম একজন ভালো মনের মানুষ। সলুয়া বাজারে মুদি দোকানির ব্যবসা করতেন। কোন অপরাধ না করেও নেশাগ্রস্থের হাতে নির্মম খুনের শিকার হয়েছেন রফিকুল। তার এমন মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা। দাম্পত্য জীবনে রফিকুল তিন সন্তানের জনক ছিলেন। তারা হলো সুমাইয়া (২০), সুরাইয়া (১০) ও আবু হানিফা (৭)। নিহত রফিকুলের বাড়িতে শোকের মাতম চলতে দেখা গেছে। স্বজনদের আহজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কাঁন্নায় বুকফাটা আর্তনাদ দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কোন শান্তনায় তাদের চোখের পানি থামছে না। রফিকুলের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তার সোনা ভাই-বোনের মধ্যে সকলের বড়। সারাদিন ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকতেন। পলাশ হেরোইন খেয়ে আমার সোনার জীবন কেড়ে নিয়েছে। স্ত্রী লিপি খাতুন জানান, আমার স্বামীর কোন দোষ নেই। ন্যায্য টাকা দিয়ে ৮ শতক জমি কিনেছে। তারপরও পলাশ তার মানুষটাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। আমার তিন ছেলে-মেয়েকে অকালে পিতাহারা করা হলো। কাঁদতে কাঁদতে পিতার খুনের বিচার দাবি করছিলো শিশু সুরাইয়া। রফিকুলের চাচাতো ভাই শফিয়ার রহমান জানান, জগহাটি গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে মিষ্টি ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম ভুল বুঝিয়ে পলাশকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। ফলে নেশাগ্রস্ত পলাশ প্রকাশ্যে রফিকুল খুন করেছে। তিনি আশাদুলের বিচার দাবি করেছেন। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, রফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পলাশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শফিয়ার মামলাটি করেছেন। এদিকে, গণপিটুনিতে পলাশ নিহতের ঘটনায় তার বোন পাপিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম ২ বছর আগে একই গ্রামের হযরত মন্ডলের ছেলে আব্দুল আলিম পলাশের কাছ থেকে ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। কিছু দিন আগে পলাশ ওই জমি জগহাটির আহাদ আলীর ছেলে মিষ্টি ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এরই জের ধরে মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারে যুবদল নেতা রফিকুল ইসলামকে (৪৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় খুনি আব্দুল আলিম পলাশ গণপিটুনিতে নিহত হন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)