চৌগাছা প্রতিনিধি : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। আর মাত্র ৩০ দিন পরেই ভোট। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট নিয়ে তেমন প্রচার প্রচারণা নেই যশোরে চৌগাছা উপজেলায়। সংস্কারের পক্ষে কথা বলতে দেখা গেলেও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রচারণা চালাচ্ছেনা। গণভোটের প্রচারে অন্তর্র্বতী সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে প্রচারপত্র বিলি করা, উঠান বৈঠক করার মতো কাজ করবেন সরকার। এছাড়া ব্যানার, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু চৌগাছা উপজেলা প্রশাসন সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। শহর কেন্দ্রিক দুইএকটা বিলবোর্ড এবং পৌর প্রশাসকের পক্ষে কিছু লিফলেট বিতরণ করা হলেও প্রচারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। অবশ্য চৌগাছা প্রেসক্লাবের সামনে একদিন ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা ছিল না। অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেনও না। সাধারন মানুষের কাছে এটি কেবল ভিডিও দেখানোর গাড়ি ছিল। সরকার গণভোটের প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে বলছে। সেজন্য তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সরাসরি গণভোটের প্রচার করতে মসজিদের ইমাম ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এসকল পদক্ষেপের কোনোটিই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা। গঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গত অক্টোবরে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হবে গণভোট। প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল খান বলেন-৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা নেই। ভোটারদের সচেতন করতে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও চৌগাছায় গণভোট নিয়ে সেভাবে প্রচার হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন- সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ২১ জানুয়ারির পর। এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বাধা থাকলেও গণভোটের প্রচারে বাধা নেই। তবু রাজনৈতিক দলগুলোকে সেভাবে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে না। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন- গণভোটের প্রচারে এখনো দুর্বলতা আছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন- ভোটের প্রচার শুরু হলে গণভোটের প্রচারও জোরাল হবে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ ভোট দেওয়া বিকল্প নেই। চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন- সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটের প্রচারণা শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।