মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে ধনাঢ্য মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের নামে বীর নিবাসের সরকারি বাড়ি বরাদ্দ অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বরাদ্দকৃত বাড়িটি মঙ্গলবার বাতিল করেন। অভিযোগ রয়েছে তথ্য গোপন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব সুচতুর মোঃ আলাউদ্দিন নিজেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে সরকারের বীর নিবাস প্রকল্প থেকে ১৮ লাখ টাকার বরাদ্দের একটি বাড়ি হাতিয়ে নেন। এ ব্যাপারে ১ অক্টোবর বিভিন্ন গনমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাদ্দকৃত তালিকা থেকে তার নামটি বাদ দেন।
জানাযায়, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলাউদ্দিন ২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারের দায়িত্ব পান। সেই থেকে টানা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত তিনি কামান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। গত ৩০ আগষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নুতন করে ৭ সাদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠান করা হয়। এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান আলাউদ্দিন।
সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার মণিরামপুরে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৫ জনকে ”বীর নিবাস” প্রকল্পের আওতায় বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইতোমধ্যে তদন্তের মাধ্যমে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে ৫ জনের নামের একটি তালিকা চুড়ান্ত করে বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওই তালিকায় মোঃ আলাউদ্দিনের নাম ছিল চার নম্বর সিরিয়ালে। চূড়ান্ত তালিকায় আলাউদ্দিনের নামে বাড়িটি নির্মাণের জন্য উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের পৈত্রিকভিটা উল্লেখ করা হয়।
অথচ তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গোপন রাখা হয়েছিল। মণিরামপুর পৌরশহরের সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজস্ব জমিতে আলাউদ্দিনের রয়েছে প্রাচীর ঘেরা ৩তলা নির্মানাধীন বাড়ি। ঢাকায় রয়েছে একটি ফ্ল্যাট বাসা। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। তিনি প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও চাকুরির পেনশন পেয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এলাকায় রিতিমত হৈচৈ পড়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছিলেন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন বলেন, আমার নামে বীর নিবাসে বরাদ্দকৃত বাড়িটি নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, নিজেকে অস্বচ্ছল দাবি করে প্রকৃত তথ্য ও অবস্থান গোপন করে গ্রামের ঠিকানায় আবেদন করেছিলেন আলাউদ্দিন। পরে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের পর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন বাড়িটি নিতে অনিচ্ছাপ্রকাশ করে সোমবার তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। ফলে তার নামটি মঙ্গলবার বাদ দেয়া হয়েছে।