যশোরের বাজারে আমিষের মতো চড়া সবজির দাম

এখন সময়: শুক্রবার, ২১ জুন , ২০২৪, ১০:৪০:৩১ পিএম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমসহ সব ধরনের আমিষের দাম চড়া। খরায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেড়েছে সবজির দামও। বেশ কয়েকটি সবজির দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। মৌসুম শেষ হতেই বেড়েছে আলুর দাম। চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল।

শুক্রবার শহরের বড় বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি বেগুনের দাম আবারও একশ’র ঘর ছুঁয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বরবটির দাম প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁপের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ঝিঙে, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। কিছুটা কমে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়স। এক কেজি আলু কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

সবজি বিক্রেতারা বলেন, প্রচণ্ড তাপের কারণে মাঠে সবজি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই বাজারে সবজির সরবরাহ কম, দামও বেড়েছে। নতুন করে কৃষকেরা যেসব সবজি লাগাচ্ছেন, তা আসতে সময় লাগবে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে রোজার সময়ে বেড়ে যাওয়া মাংসের বাজারে ঈদের পর দামের পরিবর্তন এসেছে। গরমে মুরগি মরার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় উঠেছে। কোথাও আরও ১০ টাকা বাড়তি। রোজার মধ্যেও যা প্রতি কেজি ৩৫০ টাকার আশপাশে ছিল। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩৭০ ও লেয়ার ৩৭০ টাকা কেজি। ঈদের পর নতুন করে ডিমের দাম ডজনে ২০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের ডিমের দাম পড়ছে প্রতি ডজন ১৪৪ টাকা। সাদা রঙের ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংসের দাম ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা।

শহরের শংকরপুর এলাকার খামারি সালেহা বেগম বলেন, গরমের তীব্রতার কারণে আমাদের মতো ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। খামারের মুরগি গরমে মারা যাবার সাথে সাথে ডিম উৎপাদন কমেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদনে না ফিরতে পারলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।

মাংসের মতো মাছের বাজারেও দামের উত্তাপ। আকারভেদে চাষের তেলাপিয়া ও পাঙাশ কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। চাষের রুই মাছের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। ইলিশের দামের ঠিক নেই। এক কেজি আকারের ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। দেশি মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এক কেজি শোল ও মাগুর আকারে ছোট হলেও দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা। মাঝারি আকারের বাইম ও বোয়ালের কেজি হাজার টাকার মতো।

সামনে কোরবানি ঈদ ঘিরে চড়া হচ্ছে মসলার বাজার। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ থাকলেও দাম বেশি হওয়ার কারণে আমদানিকারকদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তাতে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে বড় প্রভাব নেই। ক্ষেত্রবিশেষে পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহে কেজিতে পাঁচ টাকার মতো কমেছে। এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি।

বড় বাজারের মুদি দোকানী আশিষ কুমার বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। তবে দাম এখনো সেভাবে কমেনি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু করলে দেশের বাজারে দাম কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দেশি ও আমদানি করা রসুনের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ২১০ টাকা। আর আমদানি করা রসুনের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। আমদানি করা আদার দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি পড়ছে সাড়ে ৩৫০ টাকার ওপরে।

চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, নূরজাহান (মোটা চাল) ৪৮ টাকা, কাজললতা ৫৮ টাকা, বিআর ৬৩ চাল বিআর ২৮ চাল ৫৬ টাকা, বিআর ৪৯-৫০ টাকা ৫২ টাকা, বাংলামতি ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত ১০ দিনের ব্যবধানে সব চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা। যশোর জেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশিল কুমার জানান, বাজারে নতুন চাল আসলে কিছুটা দাম কমতে পারে।

শহরের বেজপাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, রোজার শেষ দিকে এসে বাজার কিছুটা ভালোর দিকে গিয়েছিল। এখন আবার নতুন করে দাম বাড়তে শুরু করেছে। উচ্চ মূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছি। সেই অনুযায়ী আয় বাড়ছেনা।