দীর্ঘদিন পর সরকারের ইজারাভুক্ত হলো ভাঙ্গুড়ার পশুহাট

এখন সময়: মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর , ২০২৩, ১২:১৫:৫৬ পিএম

বাঘারপাড়া পৌর প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ছিলো ‘ভাঙ্গুড়া পশু হাটের’ ইজারা নিয়ে । হাটে খাজনা আদায় বন্ধ থাকায় স্থানীয় একটি মহল নিজেদের জমিতে পশুহাট বসিয়ে অবৈধ টাকা আদায় করে আসছিলেন। যার কারণে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা আদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় এখন থেকে হাটটি ইজারার আওতায় আনতে আর কোনো সমস্যা নেই। সোমবার নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ পশুহাটটির দখল বুঝে খাস আদায়ের আওতাভূক্ত করেন। 

সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট ২০২১ তারিখে হাইকোর্ট স্থিতিবস্থা স্থগিত করেন আদালত। অজানা কারণে উচ্চ আদালতের রায়ের ফাইলটি আড়ালে চলে গেলে চলতি বছরের শেষ সময়ে যশোর জেলা ও বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। গত ১২ নভেম্বার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক পত্রে ভাঙ্গুড়া হাট সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ও নি¤œ আদালতে কোনো মামলা চলমান না থাকায় ইজারা কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নির্দেশনা মোতাবেক জমির মালিক ও পূর্বের ইজারা গ্রহিতাকে হাটের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অবহিত করা হয়। একই সাথে নিম্ন আদালতে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্যও আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

ভাঙ্গুড়া পশু হাট সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সোমবার উপজেলা হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এক সভায় মিলিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী বাংলা বছরে হাটটি ইজারার আওতায় আনা হবে এবং এর আগ পর্যন্ত পশু হাটের খাস আদায় করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি উপজেলা প্রশাসন গতকাল সোমবার হাটটি পরিদর্শন করেন ও দখল বুঝে নেন। জানা গেছে, এদিন সরকারে রাজস্ব হিসাবে খাস আদায় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।     

জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া হাট সরকারের ইজারাভূক্ত ছিলো দীর্ঘদিন। সপ্তাহের প্রতি সোম ও শুক্রবার হাটটি ভাঙ্গুড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয় মাঠে চালু থাকে এবং শুধুমাত্র সোমবারই এখানে পশু বেচাকেনা হতো। প্রতি বছর এখান থেকে ৩লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করতো সরকার। এরপর ১৪২৮ বাংলা (ইংরেজী ২০২১) সালে স্থানীয় বুলবুল নামের এক ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে ভাঙ্গুড়া পশু হাটের বৈধতা নিয়ে যশোর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় আদালত হাটে স্থগিত আদেশ দেন। ঐবছরই ১৫লাখ ৭৫হাজার ৫’শ টাকায় হাটটির ইজারা পায় স্থানীয় টিপু সুলতান। এরই সূত্র ধরে একই বছর টিপু সুলতান পশুহাট বন্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে অবস্থিত পশু হাটকে অবৈধ ঘোষণা এবং হাটের স্থিতিবস্থা বহাল রেখে আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এ আদেশে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেন বুলবুল। তখন থেকে হাটের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ হয় এবং নিজ জমিতে টিপু সুলতান হাট বসিয়ে জমা দেওয়া  ১৫লাখ ৭৫হাজার ৫’শ টাকা তোলার চেষ্টা করেন। তিনবছর অবৈধ পশু হাট চললেও আদালতে মামলা থাকায় প্রশাসনও এখানে ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না। ২০২১ সালের উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ার ফলে টিপু সুলতানের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে এ পশু হাটটি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর উপজেলা হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় ভাঙ্গুড়া হাট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে পত্র জারি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান পশুহাট থেকে পশ্চিম পাশে যশোর-নড়াইল সড়কের দক্ষিণে স’মিল চত্বরে এ হাটটি বসবে।