নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের বাণিজ্যে। দেশের অভ্যন্তরের পণ্য পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া বেড়েছে ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে। পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সেই ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম রুটে ১৫ টন পণ্য পরিবহনে আগে গুনতে হতো ২৭-২৮ হাজার টাকা ভাড়া। এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নারায়নগঞ্জে আগে ভাড়া ছিল ২৩-২৫ হাজার টাকা, এখন সেখানে দিতে হচ্ছে ২৮ হাজার টাকা। এতে করে বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, একারণে উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সোমবার ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চালক রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে একদিনের ব্যবধানে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা পথে বসবে। অসিম মন্ডল নামের অপর চালক বলেন, ‘এক গাড়ি চাল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। আগের চেয়ে চার হাজার টাকা ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে। মালিকের এই টাকা উঠাতে পণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে।’ ট্রাকভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসলে দেশে তেলের (ডিজেলের) তেমন সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত তেল নিয়েই ট্রাকগুলো চলাচল করছে। তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ট্রাকের ভাড়া অনেক বেশি বাড়িয়েছেন মালিকপক্ষ। এখানে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরূপায়। বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজি বলেন, সরকার সব ধরণের তেলে দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। যার প্রভাব গতকাল থেকেই (সোমবার) পড়েছে। তেলের দাম বাড়লেতো আমাদের ট্রাক ভাড়া বাড়াতেই হচ্ছে। যকণ তেলের দাম কমবে তখন ভাড়াও সমন্বয় করা হবে। বেনাপোল আমদানি রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, দেশর সব চেয়ে বড় স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ট্রাক পণ্য আমদানি ও আড়াই থেকে ৩শ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাক মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে তাদের পণ্যর দামও বাড়াতে হবে। যার প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়েব। যশোরের আমদানিকারক স্বপ্ন অটোর মালিক রাজু আক্তার জানান, আমরা বেনাপোল দিয়ে মোটরসাইকেল পার্টস আমদানি করি। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ব্যয় বেড়ে যাবে। প্রতিযোগিতার বাজারে কিভাবে ব্যবসা করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। যশোর চেম্বার অব কামর্সের পরিচালক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউসি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বলেন, আমরা হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রফতানি করে থাকি। তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের অনেক ব্যয় বেড়ে যাবে। কেননা আমাদের ক্লোড চেইন ঠিক রাখতে হয় জেনারেটরের মাধ্যমে। এছাড়া পণ্য চট্রগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাবার কারণেও আমাদের ব্যয় বেড়ে যাবে।