নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধে বিপক্ষ শক্তি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং তাদেরকে যেকোনো মূল্যে রুখতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে, এদেরকে প্রতিহত করতেই হবে। শনিবার বিকেলে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নাগরিক শোক সভা কমিটি, যশোরের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনির স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন সংগঠনের একদল শিল্পী দেশাত্মবোধক ও গণসংগীত পরিবেশন করেন। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ-দ্দৌলা, চুয়াডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেস উদ্দিন, আলী হোসেন মনির কন্যা ফারজানা আলী অনি, সাবেক পৌর কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা সিপিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, কেশবপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, বাসদ নেতা হাসিনুর রহমান, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং যশোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান। কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমান বৈরী পরিবেশের মধ্যেও আলী হোসেন মনির স্মরণে এমন আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও স্যালুট জানান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক স্বপন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু ও বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল মালেক। স্মরণ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মিত্র দেশের সহযোগিতা ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই মুক্তি বা স্বাধীনতার সংগ্রাম সফল হয়নি। আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামে যেমন ফ্রান্স সহায়তা দিয়েছিল, তেমনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া, বুলগেরিয়া ও ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ আবার স্বাধীনতা বিরোধীরা ধৃষ্টতা দেখিয়ে বলছে একাত্তরে নাকি আমাদের মুক্তিযুদ্ধই হয়নি! অথচ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ না হলে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আবারো ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। সভায় আলী হোসেন মনির স্মৃতি ধরে রাখতে পৌরসভাকে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে, ইতিপূর্বে ঘোষিত ‘আলী হোসেন মনি সড়ক’-এর পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানান বক্তারা। উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি গত ১২ জুন যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৭ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।