কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুর পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা মারজান পূর্ণতা (১৪) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দেওলী গ্রামের ব্যাংকার মহাসিন আলী গাজী ও উপজেলার বাগদহা মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা মুর্শিদা খাতুনের মেয়ে। মাইশা মারজান পূর্ণতা ছিল বহু প্রতিভার অধিকারী। সকল শ্রেণীতে তার রোল নম্বর ছিল ১, সে ৫ম ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছিলো। সে ছিলো গার্লস গাইড, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার প্রতিভা ছিল সকলের উপরে। চিত্রাংকন, উপস্থিত বক্তৃতায় ছিল অতুলনীয় দক্ষ। সে ছিলো বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও সহপাঠী শিক্ষার্থীদের প্রিয় মুখ। গত ১১ মে প্রাইভেট শিক্ষক মোঃ আব্দুস সাত্তার পড়াশোনা নিয়ে তাকে বকাবকি করেছিলেন। তাছাড়া তার মায়ের নিকট ফোন করে পড়াশোনা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এরপর বাড়িতে আসার পরে তার মা তাকে পুনরায় বকাবকি করেছিলেন। এই পড়াশোনা নিয়ে শিক্ষকদের ও মায়ের বকাবকির কারণে মায়ের উপর অভিমান করে ১১মে রাতে নিজেদের বসতবাড়ির ঘরের জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা মারজান পূর্ণতার অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী ও পরিবার গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়ে। পরিবারের ওপর একরাশ অভিমান নিয়ে এভাবে না ফেরার দেশে চলে যাওয়াটা মেনে নেয়া কঠিন। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মান্নান, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার দত্ত, শিক্ষক আব্দুস সালাম, মাষ্টার মতিয়ার রহমান সহ সকল শিক্ষক হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। তার পিতা মাতা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এলাকার শোকেরছায়া নেমে এসেছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত বলেন-এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।