ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ দীর্ঘ ৩১ বছরেও পূর্ণতা পায়নি। প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এ প্রকল্পটির উন্নয়ন। ফলে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স ও শ্বশুরবাড়ি ভবন দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় দর্শনার্থীদের। এরই মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণডিহিতে আগামীকাল (৮মে) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তী ও লোকমেলা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে খুলনা জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ার পর সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০০ সালের ৮ আগষ্ট বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে। পরে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর দক্ষিণডিহিতে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লে´ নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় এ বাবদ ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই টাকা দিয়ে ২০১২ সালের মাঝামাঝি ভবন সংস্কার, একপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে। তবে এর আগে দ্বিতল ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া সেই পুরানো ছবেদা তলায় নির্মিত হয়েছিল মৃণালিনী মঞ্চ। কিন্তু বাড়িটি ঘিরে রবীন্দ্রনাথের কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা কাম লাইব্রেরি এবং অডিটোরিয়ামসহ রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ও রেষ্ট হাউস নির্মাণের দাবি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও উপেক্ষিত রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, পিকনিক স্পট নির্মাণ, রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রবেশের ৩টি রাস্তা প্রশস্তকরণ। এছাড়া এখানে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে প্রস্তাবিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা ক্যাম্পাস বা স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, বেজেরডাঙ্গা রেলষ্টেশনের নাম পরিবর্তন করে দক্ষিণডিহি রেলষ্টেশন এবং খুলনা-বেনাপোলগামী ট্রেনকে মৃণালিনী এক্সপ্রেস নামকরণও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমানে দৃশ্যমান কাজের মধ্যে শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার ও রঙের কাজ, নিচতলায় অপূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরী, সংগ্রহশালা ও দর্শনার্থীদের অবসর যাপনের জন্য ছাউনী তৈরী ও টয়লেট নির্মিত হয়েছে। এদিকে ফুলতলা উপজেলার সাবেক ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সময়ে ইতোমধ্যে দৃষ্টিনন্দন পার্কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশ্য দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি ২০১৬ সালের ১০মে ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশী ও বিদেশী দর্শণার্থীদের জন্য টিকিটের প্রচলন করা হয়। দেশী দর্শণার্থীদের ২০টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ৫০টাকা টিকিটের মূল্য চালু করা হয়েছে। তবে করোনার কারণে ৩বছর যথাযথ ভাবে অনুষ্ঠান পালন না হলেও এরারই কবিগুরুর ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ বৈশাখ থেকে ২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী কবির স্মৃতিবিজড়িত ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের উৎসবকে ঘিরে আয়োজক ও দর্শকদের মধ্যে রয়েছে আলাদা একটা উদ্দীপনা। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় ইতিমধ্যে কবির স্মৃতিধন্য রবীন্দ্র কমপ্লেক্সেকে নতুনরূপে সাজনো হয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ৩দিন ব্যাপী আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম এমপি, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আলি আজগার, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মিজ হুরে জান্নাত। ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রনাী সাহা বলেন- তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন। সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। এ মেলায় লোক সমাগমও প্রচুর হবে বলে তিনি আশা করেন।