নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই সন্তানের স্কুলড্রেস, স্কুলব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে আপ্লুত পার্বতী দাস। যশোর সদর উপজেলার জামতলা এলাকার বাসিন্দা পার্বতী দাস জানালেন, স্বামী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। এই অবস্থায় দুই ছেলেকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কাজে দিতে হয়েছিল। পরে ঠাকুর ফাউন্ডেশনের (এআরকেটিএফ) সহযোগিতায় সেলাই মেশন ও প্রশিক্ষণ পেয়ে কাজ শুরু করেছেন। দুই ছেলেকে স্কুলে ফিরিয়ে এনেছেন।
চাঁচড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা পিঞ্জিরা বেগম জানালেন, তার দুই ছেলে মেয়েও স্কুলড্রেস, ব্যাগ, জুতা-মুজাসহ বিভিন্ন উপকরণ পেয়েছে। ঠাকুর ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ছেলে মেয়েরা স্কুলে নিয়মিত হয়েছে। শুধু এই দুই অভিভাবকই নন, যশোরে এবছর ৩৯২ জন শিশুকে স্কুলড্রেস, ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে। রোববার যশোরের তিন স্কুলে ৯০ শিক্ষার্থীকে এই উপকরণ প্রদান করা হয়।
দরিদ্র-ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে আব্দুর রশিদ খান ঠাকুর ফাউন্ডেশন (এআরকেটিএফ) প্রতিবছর শিশুদের স্কুলড্রেস, স্কুলব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ প্রদান করছে। রোববার সকালে যশোরের শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুপুরে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন স্কুল ও উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শিশুদের মাঝে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপকরণ বিতরণ করেন আব্দুর রশিদ খান ঠাকুর ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক প্রদীপ মার্সেল রোজারিও, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলীম প্রমুখ।
আব্দুর রশিদ খান ঠাকুর ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান জানান, ‘ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হ্রাসের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়ন সাধন প্রকল্পের’ আওতায় যেসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিযুক্ত হয়েছিল তাদেরকে স্কুলে ফিরিয়ে এনে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই শিশুদের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলড্রেস, স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।