মিরাজুল কবীর টিটো : আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফর উপলক্ষে ২০ এপ্রিলের মধ্যে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । সেই সাথে ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফরকালে যশোর মেডিকেল কলেজ এবং শার্শার উলসীতে ‘জিয়া খাল’ খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। তার নিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যশোর সদর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে নির্মাণ সামগ্রী রাখা বা বাস, ট্রাক, ট্যাংকার ও পিকআপ পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব রোডের পাশের জ্বালানি তেলের পাম্প বন্ধ থাকবে, অস্থায়ী দোকান অপসারণ করা হবে। এমনকি শহরের প্যারিস রোডে দেয়া দোকান বন্ধ থাকবে। এসব রোডের ধারের বিভিন্ন স্থাপনা , নির্মাণ সামগ্রী অপসারণে পৌরসভা ও পুলিশ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন- ৩ লিটারের কম তেল থাকলে পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে তেল দেবেন। কাগজপত্র না থাকলে ১ মাসের জন্য গাড়ি জব্দ করা হবে। শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কৃষকদের ইরি মৌসুমে সেচ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাড়িতে তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফল উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তার শার্শার উলসী সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক সংলগ্ন তেল পাম্প বন্ধ থাকবে। তেল পাম্পের কারনেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে রাস্তার ধারে কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক থামিয়ে রাখা না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। যশোরের পরিস্থিতি ভাল রাখতে মাদকের ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গত তিন মাসে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কারনে এখন কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেল কেউ চালাচ্ছে না। চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন- ঘোপ জেল রোড থেকে দড়াটানা পর্যন্ত অনেক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিটি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করার পরও পদক্ষেপ নেয়া হয় না। জেলা বিএনপির সভাপতি পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন- পাম্পে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র চেকিং করে পেট্রোল দিতে হবে। এটা করলে মোটরসাইকেলের লাইন কমে যাবে। সেনাবাহিনীর মেজর মর্তুজা বলেন- ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান করার নির্দেশ আছে। র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক বলেন-ভোজ্য তেল ও খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসময় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মুজাহিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা আনসার কমাড্যান্ট সেফাউল হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।