ক্রীড়া প্রতিবেদক: যশোরের আন্তর্জাতিক ফিফা ব্যাচধারী খ্যাতি সম্পন্ন ফুটবল রেফারি তথা সংগঠক হিসেবে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব যশোরের কৃতি সন্তান আনসারুল ইসলাম মিন্টু ৪ এপ্রিল যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন। ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রেফারি ছাড়াও তিনি ছিলেন যশোরের একজন সফল স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সংগঠক যার অনুপ্রেরণা ও ছোঁয়ায় যশোরের আরো অনেক সফল খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। তার জানাজা বাদ জোহর ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ঘোপ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জাামান, জেলা ফুটবল রেফারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ফসিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক নিবাস হালদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ সোহেল আল মামুন নিশাদসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু শোক সংবাদ শুনে কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টুর বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবীর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবিএম আক্তারুজ্জামান ও জেলা ফুটবল রেফারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। সংক্ষিপ্ত জীবনী : কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু ১৯৪৪ খৃষ্টাব্দে নওগাঁ, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম কাজী ওহেদুননবী মাতা কাজী ওয়াশেফা খাতুন। পাঁচ ভ্রাতা দুইভগ্নীর মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ । পিতা যশোর জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও একজন খেলোয়াড় ছিলেন। চাকুরী সুত্রে যশোর ঘোপে স্থায়ী বসবাস শুরু হয়। ১৯৭৬এ তিনি ঢাকা নিবাসী সাবিনা ইসলামকে বিবাহ করেন। তিনি দুই পুত্র সন্তানের পিতা ছিলেন। শিক্ষা বিএ, কর্মজীবনে তিনি ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ খুলনা শিপইয়ার্ড এ চাকুরি করেন। পরবর্তীতে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন।কাজী আনসারুল ইসলাম স্কুল জীবন থেকে একাধারে এ্যথলেটিক্স, হকি, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল রেফারী হিসাবে সুনাম অর্জন করেন। তিনি যশোর জিলা স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নকালে আন্তঃস্কুল ও আন্তঃকলেজ পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্স পুরস্কার লাভ করেন। স্কুল, এমএম কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০মিঃ, ৮০০মিঃ দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করতেন। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে তিনি জাতীয় এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি হকি, ফুটবল ও ক্রিকেট এ যশোর এম এম কলেজের পক্ষে অংশ নিতেন। তাঁর মূল কর্মজীবনে ১৯৭৩ ঢাকায় ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত রেফারী প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে পঞ্চাশ জনের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে রেফারী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯৭৭ এ দ্বিতীয় এবং ১৯৭৯ এ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্য়ায়ে তিনি খেলা পরিচালনার সুযোগ পান। ১৯৮৪ তে তিনি ফিফা প্যানেল ভুক্ত হন এবং ঐ বছর আবাহনী বনাম মোহামেডানের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের কৃতি রেফারী হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকা ফুটবল লীগে আবাহনী বনাম মোহামেডান তথা গুরুত্বপূর্ণ দল সমূহের মধ্যকার অত্যন্ত স্পর্শকাতর খেলাসমূহ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেন। কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু রেফারী হিসেবে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ খেলা সাফল্যের সাথে পরিচালনা করেন সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ; ১৯৮৫ করাচীতে কায়েদে আযম ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্ণামেন্ট। ১৯৮৭ তে তৃতীয় সাফ গেমস্ ফুটবলে ৫টি খেলা সহ ফাইনাল খেলা পরিচালনা। বাংলাদেশে আগাখান গোল্ডকাপ, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ, এশিয়াকাপ সহ একাধিক অন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। তিনি ১৯৭৬ হকি আম্পায়ার হিসেবেও প্রশিক্ষণ নেন এবং ১৯৭৭ এ অনুষ্ঠিত জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন। কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮৬ তে ‘‘বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি’’ যশোর শাখা কর্তৃক সেরা রেফারী, ১৯৮৭ তে ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা’ কর্তৃক সেরা রেফারী পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি ‘ফুটবল রেফারী এ্যাসেসিয়েশন’ যশোর শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। ‘ঘোপ স্পোর্র্টিং ক্লাব’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।