বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণকারী বনদস্যু রাঙ্গা বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে (২৩) বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আটক করেছে কোস্টকার্ড। বুধবার রাতে খুলনার তেরোখাদা উপজেলার ধানখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাঙ্গা বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে আটক করা হয়। মাসুমের স্বীকারোক্তিতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শ্যুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি দেশীয় কুড়াল, ১টি দা, ১টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সাথে জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার আটক বনদস্যু ও জব্দ অস্ত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টকার্ড। রাঙ্গা বাহিনী প্রধানের আটকের মধ্যদিয়ে এই নিয়ে সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনায় ৯জনকে আটক করল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাকি আটককৃতরা হলেন, বনদস্যু মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), আলম মাতব্বর (৩৮), মো. ইফাজ ফকির (২৫), মোছা মৃধা (৫৫), মো. মহারাজ হাওলাদার (২৫), বনদস্যু মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) এবং বিকাশ এজেন্ট অয়ন কুন্ডু (৩০)। আটক সবার বাড়ী খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডর আবরার হাসান আরো জানান, শুক্রবার বিকেলে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় নৌকায় ভ্রমণকালে ৫ পর্যটক, ১ মাঝি এবং রিসোর্ট মালিকসহ ৭ জনকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন বনদস্যু রাঙ্গা বাহিনী। বনদস্যুরা ৩জন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও ২ পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে শনিবার ও রবিবার দুই দিনের অভিযানে বনদস্যু ও তাদের সহযোগী জনকে আটক করে কোস্টকার্ড। রোববার রাতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মিকৃত ২ পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।