নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক এমএম মোর্শেদ এ আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে উদ্ধার হওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন তিনি। এর আগে আটক আশরাফুল আলমকে আদালতে সোপর্দ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তার অনুসারী কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মোঃ সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মোঃ আল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম শিক্ষা অফিসে অভিযান চালিয়ে আশরাফুল আলমের রুম থেকে আটক করেন। এ সময় উদ্ধার করা হয় ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। যশোর সদরের বসুন্দিয়া খান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবীর স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ২ অক্টোবর তার স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর পেনশন সংক্রান্ত টাকার জন্য তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ৩ মাস ধরে তিনি নানাভাবে তাকে ঘুরাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তার হাতে ঘুষের ৮০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। এরপরও আরও ঘুষ দাবি করলে তিনি টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু টাকা না দিলে তার স্ত্রীর পেনশনের টাকা ছাড় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর জন্য তিনি ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করেন। এ ঘটনা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন আইনে আটক আশরাফুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটক আশরাফুল আলমকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে, আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, হয়রানি, ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দুপুর ১২টায় কালেক্টরেট চত্বরে মানববন্ধন করে তার অনুসারী শিক্ষকরা। এরমধ্যে জেলার প্রাথমিক অফিসের কর্মকর্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা রয়েছেন। মানববন্ধনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম নাজমুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম একজন সৎ কর্মকর্তা। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি ঘুষ নেয়ার মতো কাজে জড়িত থাকতে পারেন না। যে শিক্ষক এ অফিসারকে ফাঁসিয়েছেন, তাকে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঝিকরগাছার জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সদরের বসুন্দিয়া খানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করেছেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিএম আলমগীর কবির, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অলিয়ার রহমান, সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোহেল রানা, মণিরামপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূরে এলাহী প্রিন্স, সহকারী শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন কুমার মন্ডল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকরামুল কবির উজ্জল, মিডিয়া সম্পাদক শাহজাদ হোসেন বাবু,সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম,জেলা সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান, চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোকলেছুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিএম আলমগীর কবির শিক্ষকদের বলেন, আপনারা নিজের প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে করে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।