বিল্লাল হোসেন : যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু বিশেষজ্ঞ পদ আছে কিন্তু চিকিৎসক নেই। ফলে শিশুরা উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পদ শূন্য থাকার কারণে একজনের দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশু রোগীদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে। রোগীর অবস্থা সামান্য খারাপ হলেই তারা রেফার্ড করছেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মানুষের আর্থিক ব্যয়ের সাথে দুর্ভোগ বাড়ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় ৮ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এগুলো হলো শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এরমধ্যে শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। সেখানে শিশু বিভাগ জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীত বাড়ার সাথে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। প্রায় ঘরে ঘরে একই অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেনা। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
এদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। উপজেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা না পেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে ছুটছেন জেনারেল হাসপাতালে। ফলে অন্তবিভাগ ও বহির্বিভাগে শিশু রোগীর প্রচন্ড ভিড় হচ্ছে।
রাহেলা বেগম ও রোকেয়া খাতুন জানান, তাদের দুইজনের সন্তান ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই সন্তানদের নিয়ে যশোর হাসপাতালে এসেছেন।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের দম্পতি চঞ্চল ও লালিয়া খাতুন জানান, প্রচণ্ড শীতে তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ঝিকরগাছায় শিশুদের নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন কিন্তু এটা শিশুদের কোনও কাজেই আসছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে মেডিকেল অফিসার শিশু রোগী দেখছেন। একটু গুরুতর হলেই জেলা হাসপাতালে নিতে পরামর্শ দেন। ফলে অভিভাবকদের আর্থিক ব্যয়ের সাথে দুর্ভোগ বাড়ছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত জানান- শিশু বিভাগে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেবা বঞ্চিত শিশুরা এখানে আসার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণ হলে এখানে রোগীর চাপ অনেকটা কমে যাবে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান-শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরেও শিশু রোগীদের সুবিধার্থে মেডিকেল অফিসার প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তখন তারা জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন। পদ শূন্যের বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।