নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার উজ্জ্বলপুর মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ৫০ বছর ধরে পৈতৃক বসতভিটায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন রবিউল ইসলাম। তবে জরিপের ভুল রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে এবং সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে সেই জমি দখলের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুল সংশোধনের কথা বলে টাকা নেওয়া এবং আদালতে হয়রানি মুল তথ্য উপস্থাপন করারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার উজ্জ্বলপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম তার বাপ-দাদার পৈতৃক ১ একর ৩৯ শতাংশ জমিতে প্রায় অর্ধশতক ধরে বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। তবে জরিপের সময় ভুলবশত জমিটি রবিউল ইসলামের ফুফাতো ভাই সমসের আলীর ছেলে আসাদুল ইসলামের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে রেকর্ড সংশোধনী মামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসাদুল ইসলাম রবিউলের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেন। ভিটেমাটি রক্ষায় বাধ্য হয়ে রবিউল ইসলাম দুই দফায় ৭০ হাজার টাকা আসাদুলকে প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেয়ার পরও জমি ফেরত না দিয়ে উল্টো নানা টালবাহানা শুরু করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, নস্তি গ্রামের মোশাররফের ছেলে বজলু হোসেন ও উজ্জ্বলপুর গ্রামের মৃত তাহের মন্ডলের ছেলে সোহারব এই জালিয়াতিতে যুক্ত হয়ে আসাদুলের পক্ষ নিয়ে দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখাচ্ছেন। বজলু হোসেন রবিউলকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং জমি রেজিস্ট্রি করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করে বাধা সৃষ্টি করছেন। বর্তমানে জমি সংক্রান্ত এই বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি চলমান রয়েছে। যেখানে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসতবাড়ি বানিয়ে একটি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করছে, সেখানে আদালতে বিবাদী পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে জমিটি নাকি সম্পূর্ণ খালি জায়গা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন,এটি আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি। ভুল রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েও জমি দখলের চক্রান্ত চলছে।