ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ধর্ষক ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কারও পক্ষে কেউ তদবির করলেও হাজতে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মন্ত্রী বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোনো দলের হতে পারে না। যদি কোনো রাজনৈতিক নেতাও তদবির করেন, তবে সেই নেতাকেও একই মামলায় হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে অবহেলার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিস করেন। কিন্তু জেলা ও উপজেলার অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে এখনো অফিসে আসার অনীহা রয়েছে। কর্মকর্তারা যদি স্ব-স্ব স্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনো সংকট থাকবে না।’ সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা (এফিসিয়েন্সি) বৃদ্ধি ও জনভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে প্রথমে ৬০-৭০ কোটি টাকা এবং পরে তা বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতি পাওয়ায় একনেক বৈঠকে সেটি স্থগিত করেছি। রাষ্ট্রের টাকা বেশুমার লুটপাট ও বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার বন্ধে এখন প্রকল্পগুলোর বাস্তবতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’ মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা এখন স্মার্ট হয়ে গেছে। তারা সীমান্তে মাদক পাচারে ড্রোন ব্যবহার করছে। আদালতে আইনি ফাঁকফোকর গলাতে তারা অল্প পরিমাণে (১০-১৫ পিস) মাদক বহন করে। ফলে বিচারকরা পরিমাণের দিকে তাকিয়ে সহজে জামিন দিয়ে দিচ্ছেন। এদের দমনে সরকার আরও কঠোর হবে।’ চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বাজেট অত্যন্ত চিন্তাশীল, সুদূরপ্রসারী, উচ্চাভিলাষী এবং জনকল্যাণের বাজেট। বিএনপি দেশ ও জনগণের রাজনীতি করে বলেই এই বাজেট নিয়ে রাজপথে কোনো মিছিল-মিটিং নেই।’ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান সোহেল, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম, পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিস বিন হাসান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। এর আগে সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু-আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না। তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব ; এটা মনে করার কারণ নাই। বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি ; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই। তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি।