বিল্লাল হোসেন : শনিবার ছিল পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। একই সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। শীতের রুক্ষতা শেষে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। আগুন রাঙা ফাগুনের দিন ভালোবাসা দিবস হওয়ায় প্রেম পিয়াসীদের উচাটন মন আর ঘরে থাকেনি। বেরিয়ে পড়ে প্রিয়জনের হাত ধরে উৎসব বিহার। যেনো বসন্ত আর ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার। যশোরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয় স্বামী-স্ত্রী পিতা-মাতাসহ নানা সম্পর্কের মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিলো পরিবেশ। ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে শহরের ফুল ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়েছিলো। ফুলের দোকান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিলো সরব উপস্থিতি। যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, বসন্তের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এক অন্যরকম দিন পার হলো মানুষের। এদিন সকাল থেকেই যশোরের রাস্তাগুলোতে চলাচল শুরু হয় তরুণ-তরুণীদের। হাতে ছিলো লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুল ও নানা উপহার সামগ্রী। তরুণ তরুণীদের মনের উঠোনে বইতে থাকে ভালোবাসার উতল হাওয়া। যেনো তারা একে অপরকে বলছে শুধু ভালোবাসি তোরে। দুই দিবসকে ঘিরে শহরের ফুল ব্যবসায়ীরা যে পসরা সাজিয়েছিলো তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। দাম বেশি হওয়ার কারণে ফুলের দোকানগুলোতে খুব বেশি ভিড় না থাকলেও হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিলো মানুষের সরব উপস্থিতি। অনেকেই পরিবার নিয়ে জড়ো বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। যশোর শহর ও শহরতলীর বিনোদন পার্কগুলোর পরিবেশ মুখরিত ছিলো। অনেকেই ভালোবাসা বিনিময়ের জন্য ছুটে যায় সেখানে। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়ে কিছু সময় কিছু উপহার বিনিময় করছে তারা। হরেক রকমের ফুলের ভিড়ে সবাই লাল গোলাপককে বেশি প্রাধান্য দেয়। অনেকেই আবার বই বা কার্ড উপহার দেয়ার ফাঁকে প্রিয়সীর চুলে ভালোবাসায় সিক্ত গোলাপ কলি গুচে দিয়ে প্রকাশ করে ভালোবাসার মাত্রাটা। বসন্তের পোশাক পরে হাতে হাত রেখে ঘুরেছে অনেকেই। যশোর পৌর পার্ক, কালেক্টরেট পার্ক, দড়াটানা ভৈরব নদের পাড়, উপশহর পার্ক, জেক গার্ডেন, বিনোদিয়া ফ্যামেলি পার্ক, বোটক্লাব, বিমানবন্দর বাইপাস সড়ক ছাড়াও তরুণ-তরুণীরা জড়ো হয়েছিলো। বসন্ত প্রেম আর রোমান্টিকতার মধ্য দিয়ে তাদের দিন অতিবাহিত হয়। পৌর পার্কে আসা এক যুবক জানান, কোন দিবসে ঘুরতে না গেলেও ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঘুরতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আবার অনেকেই বলেন, প্রেমের কোন দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালোবাসার প্রতিটি দিনেই সুখ ছড়িয়ে থাকে। আজকের দিনটিও তাদের কাছে সুখের বলে মনে হচ্ছে। তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয় ‘তোমাকে ভালবাসি। ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে’। দড়াটনা ভৈরব নদের পাড়ে ঘুরতে আসা জহুরুল ইসলাম জানান, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিবারকে নিয়ে সন্ধ্যায় ঘুরতে এসেছেন। ভালোবাসার প্রতিটি দিন বিশেষ হলেও আজকের দিনটি বিশেষের চেয়েও বিশেষ। বিশেষ এই দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখার জন্য তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুরছেন। বেশ ভালোই লাগছে।