জাকির হোসেন, কুয়াদা: যশোরের কুয়াদায় কলেজ শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তসহ এসিড মারার হুমকির ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার (১০আগস্ট) সদরের কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আনিচুর রহমান মিন্টু (৪০) বাদী হয়ে অভিযোগটি দাখিল করেন। আসামিরা হলো-একই উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের (বাদুরতলার) আলতাফ বিশ্বাসের ছেলে জুম্মান হোসেন ওরফে জনি (২৪), মৃত আনসার বিশ্বাসের ছেলে আলতাফ বিশ্বাস (৪৪), মণিরামপুরের জামজামি গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে আনান সরদার (২৫)সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান আসামি জুম্মানকে আটক করেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, ওই গ্রামের আনিচুর রহমান মিন্টু দু’কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় কন্যা এমএম কলেজে অনার্স ও ছোট কন্যা সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) তারা উভয়ে বাড়ি হতে ভ্যানযোগে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাবার পথে গ্রামের মধ্য বিবাদীরা পথের গতিরোধপূর্বক আজেবাজে কথাবার্তা, বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্তসহ নানা প্রলোভন দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে মুখে এসিড মারাসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। বাদি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থালে গেলে তাকেও হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনার বিষয়ে আলতাফ’কে জানালে সেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মূলত জুম্মান ওরফে জনি ও আনান দ্বয় বখাটে, মাদকসেবী, মাদক কারবারীসহ সন্ত্রাসী প্রকৃতির বলে এলাকায় পরিচিত। বাদির ছোটকন্যাকে বিবাহের পূর্বহতে উত্ত্যক্তসহ ফুসলিয়ে আসছিল। বাধ্য হয়ে ছোট ওই মেয়েকে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর সংসার ভাঙার জন্য একইভাবে উত্ত্যক্ত করছে। এরপূর্বে একই ঘটনায় থানায় জিডি হলে ডিবি পুলিশ জুম্মান’কে আটক করে। সে সময়ে মুচলেকায় ছাড়া পায়। তাদের এহেন কারণে বাদির স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা স্ট্রোকে মারা যায়। তাদের এ কর্মের শেষ কোথায় ? ফলে বাদিপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার বিষয়ে জুম্মানের কাছে জানতে চাইলে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিককে ভয়-ভীতি দেখায়। তবে জুম্মান আটক হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই জুয়েল হোসেন তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে তিনি জানিয়েছেন।