Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুরে হরিহরনদীর ওপর দেবিদাসপুর-পাতন ব্রিজ চলাচলের অযোগ্য, দুর্ভোগ

এখন সময়: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট , ২০২৬, ১০:৫১:৫৮ পিএম

নূরুল হক, মণিরামপুর: মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের দেবিদাসপুর ও পাতন গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর ওপর নির্মিত পুরাতন ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির রেলিং, পাটাতনসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকার জানমাল রক্ষার্থে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সোমবার থেকে ব্রিজটির ওপর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দেবিদাসপুর ও পাতন গ্রামের মাঝদিয়ে প্রবাহিত হরিহরনদীর ওপর নির্মিত ১৩ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি ইতিমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজের উত্তরপাশে দেবিদাসপুর এবং দক্ষিনে পাতন ও জুড়ানপুর গ্রাম অবস্থিত। নদীর দক্ষিন পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদ্রাসা। বিশেষ করে দেবিদাসপুর ও তার আশপাশের শিক্ষার্থীরা হরিহরনদীর এ ব্রিজ পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়া এলাকাবাসীও এ ব্রিজ দিয়ে আসাযাওয়া করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন এ ব্রিজটি সংস্কার না করায় রেলিং, স্প্যান, পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে সেটি জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ে। তার পরও জিবনের ঝুঁকি নিয়ে সবাই এ ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে আসছিল। কিন্তু সোমবার সদর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যানমাল রক্ষার্থে ব্রিজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্ব প্রান্তের প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে অপর একটি ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আব্দুর রহিম, হাফিজুর রহমান, নাজমা খাতুন, শারমিন খাতুনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিজের আশপাশের মাটি ও সংযোগ সড়কে সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারন করে। এতে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দেয়। দেবিদাসপুর ও পাতন গ্রামের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসিম। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানান, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র্রে নেয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে স্থানীয়দের এই পথ ব্যবহার করতে হয়। ফলে জীর্ণশীর্ণ ব্রিজটি দ্রুত পুননির্মান করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও সহজ হবে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক জানান, এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার থেকে ব্রিজ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান ব্রিজটি দ্রুত পুননির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে ব্রিজটি পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী জানান, পরিদর্শন শেষে দ্রুত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিআরডি) বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মানের তোড়জোড় শুরু হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)