ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, প্রস্তাবনার আলোকেই ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা হয় এবং সেই অর্ডিন্যান্সগুলোর মধ্য থেকে প্রায় সবগুলোই আমরা কিন্তু গ্রহণ করেছি। বাকি যেগুলো আছে, আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছি। সেই কমিটি জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নেবে। জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার এগিয়ে নিয়ে যেগুলো সংশোধন করা দরকার, আমরা সেগুলো সংশোধন করব।
শুক্রবার ঝিনাইদহ কালেক্টর চত্বরের বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। এসময় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলায় মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালত, আইন, পুলিশ বিভাগ যদি নিয়ন্ত্রণে থাকত তাহলে তো মামলা হতো না। মামলা তো একটা হয়েছে, মামলা যথাযথ আইনসংগতভাবে তদন্ত হবে এবং যারা দোষী তাদের শাস্তি হবে। সরকারের জায়গা থেকে আইনগত যতটা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, ততটুকু করা হয়েছে। অপরদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এখন উনি বলছেন নিজেই আসবেন। নিজে এলে তো ভালো। উনি বাংলাদেশে আসবেন, আইনের কাছে সোপর্দ করবেন নিজেকে এবং আইনসংগতভাবেই তাঁকে ডিল করা হবে। এখানে আমরা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কিছু করব না। বাবা-মার ভরণ-পোষণের ব্যাপারে নতুন আইন নিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আইনসংগতভাবে আগানোর চেষ্টা করছি। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট, ইন্ডিয়ান সুপ্রিম কোর্ট এবং আমাদের এখানেও কিছু কিছু মামলায় এই নজির আছে যে; বাবা-মা তার সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরে তার হাতে আর কিছু থাকে না। শেষ জীবনে অসহায় হয়ে যায়। এই শেষ জীবনে যাতে অসহায় না হয়, সেটাকে প্রটেক্ট করার জন্য আমরা আইনিভাবেই অবস্থান নেব। রাজনৈতিক মামলায় জামিনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যখন আদালতের সামনে কোনো নথি যায়, সেই নথিটা বিচারক অনেক দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে জামিন দেন। সুতরাং আদালত তার নিজস্ব বিবেচনায় যখন জামিন দেন, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধিতা করতে পারি জামিন দেওয়ার আগ পর্যন্ত। জামিন দেওয়ার পরে এটার সমালোচনা সরকারের পক্ষ থেকে করাটা শোভনীয় না। কোনো সভ্যসমাজে এটা প্রত্যাশিত না। তাহলে আপনি আইনের শাসন, ন্যায়বিচারের প্রতি অনাস্থা দেখাবেন। মনে হবে যে আমরা আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করছি, সেটা আমরা করি না। এ আগে আইনমন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে জেলা শহরের পায়রা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে ফিতা কেটে বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। উদ্বোধন শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন তারা। বৃক্ষমেলা উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি এনসিপির নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহনশীল, আন্তরিক ও বিনয়ী। আমাদের অপজিশনে এই মুহূর্তে যারা আছে, আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর যে আচরণ, আন্তরিকতা, সেখান থেকে তাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এনসিপি ঝিনাইদহ জেলাতে এসে যেভাবে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী থেকে শুরু করে তাদের নেতৃবৃন্দরা, হাসনাত আব্দুল্লাহরা একের পর এক গালিগালাজ করেছে, এটা কিন্তু ঝিনাইদহবাসী সহ্য করবে না। রাশেদ খাঁন আরও বলেন আমি তাদেরকে স্পষ্ট বলতে চাই-আপনারা বিরোধীদলে আছেন, রাজনীতি করছেন, আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব। কিন্তু এই নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মতন যারা রয়েছে তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় যাবেন আর আপনারা মনে করবেন যে সেখানকার যারা ভোটার বা জনগণ তারা ক্ষুব্ধ হবে না, সেটি কিন্তু হতে পারে না। আমি এনসিপিকে পরামর্শ দেব, আপনারা যেখানেই যাবেন অন্তত নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে বাদ রেখে যান। আমরা প্রত্যেকটা জায়গায় আপনাদেরকে সহযোগিতা করব।