Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি নতুন মামলায় গ্রেফতার

এখন সময়: রবিবার, ২১ জুন , ২০২৬, ০৮:৪২:৩৮ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : অফিসে অগ্নিসংযোগসহ ভাঙচুর লুটপাট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এবার সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (১৪ জুন) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গত ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পরদিন তাকে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৭৭/২৫ মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৯৬/২৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৫ সালের ১১ জুন তাকে আসামী শ্রেণিভুক্ত করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাইকোট থেকে গত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দুটি মামলায় এবং সম্প্রতি একটি মামলায় জামিন পান।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাড. আল মাহামুদ জানান, কারামুক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। নতুন এই মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) আদালতে আসামির শ্যোন অ্যারেস্ট এর আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাৎক্ষনিক জামিনের আবেদন পেশ করেন। শুনানি চলাকালে আসামি পক্ষ দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ১ মাস ধরে (অন্যান্য মামলায়) হাজতে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিকভাবে দীর্ঘ দিন পর এই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, এই মামলার এজাহারে তার নাম নেই, কোন সন্দেহ নেই, কেউ দোষ স্বীকারোক্তি করে এই আসামির নাম বলেনি। তাছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামি গ্রেপ্তার হলেও তারা সকলে জামিনে আছেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সিডব্লিউ মূলে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আমলী সদর ১ম আদালতে (সাতক্ষীরা) দন্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারা মোতাবেক এই নতুন নালিশী মামলাটি দায়ের করেন সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৪৭)।
নথি পর্যালোচনা করে মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন আসামি পরিকল্পিতভাবে বাদীনির বসতবাড়িতে বেআইনি প্রবেশ করে। সে সময় বাদীনির শিশু কন্যাকে ঘর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মালামাল লুট করে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এছাড়া ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৩নং সাক্ষীর সোনার গহনা (৬ ভরি, মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা) এবং মৃত অহেদ আলীর ব্যবহৃত একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল (মূল্য ১ লাখ ৫০হাজার টাকা)সহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র লুট করে নেয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে আসামিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে ঘরে ঢুকে বাদীনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বসতবাড়ি থেকে কিছু দূরে পাকা রাস্তার পাশে আমবাগানে তাকে নির্মমভাবে খুন করে ফেলে রাখা হয়। পরের দিন ২৭ মার্চ সকালে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
আদালত বাদীনির আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। এই মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) মীর্জা সালাউদ্দীন, ডিবি ওসি মহিদুল, সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।
প্রসঙ্গত, সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)