মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর জেলায় ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কলসেন্টার চালু করা হবে। সেখানে ফোন দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সাথে জেলায় জলাবদ্ধতা এলাকার মানুষের জন্য সকলের সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন-শহরের ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশ, এডিএম সমন্বয়ে একটি সেন্টার খোলা হবে। সেন্টারে যোগাযোগের নম্বর দেয়া হবে। ওই নম্বরে কল দিলে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন দুর্যোগ আবহাওয়ার বিপর্যয় থেকে যশোর মুক্ত রয়েছে। এ জেলার অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের ভবদহ অঞ্চলসহ জেলার নিচু এলাকাগুলো এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে। সেখানকার জলাবদ্ধতা দুরিকরণে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা এলাকার মানুষের মাঝে ২৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের মানুষের পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরো বলেন-দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য আলাদাভাবে বক্সে রাখতে হবে। তা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। সকল সরকারি অফিসের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব নাইটগার্ড রাখতে হবে। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন-মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিলে পদক্ষেপ নেয়া হবে। কোনো এলাকায় কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য বাড়লে স্থানীয় পুরিশ ফাঁড়িতে জানাতে হবে। সেখানে কাজ না হলে সরাসরি আমাকে জানালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন-জলাবদ্ধতার কারণে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন ১ ডোজ করে মজুদ আছে। সেই সাথে পর্যাপ্ত ঔষুধ, খাবার স্যালাইন রাখা আছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন-যশোর দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে না পড়লেও জলাবদ্ধতার সমস্যায় দুর্ভোগে পড়তে হয়। পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্দেশে শহরের জলাবদ্ধ এলাকার মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান-বেজপাড়ার মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্রের সামনের সাইনবোর্ড চুরি হয়েছে। তারপর তার চুরি হয়েছে। পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পায়নি। পুলিশের টহল বাড়ালে চুরি কমবে। চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন-শহরে ইয়াং ছেলেদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ছিনতাই। বিশেষ করে উপশহর ক্লাব মোড়ে প্রতিদিন অল্পবয়সী যুবকদের আড্ডা বেড়েছে। তারা স্কুল, কলেজের ছাত্রীদের উত্তাক্ত করছে। সুযোগ বুঝে ছিনতাই করছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।