নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইউএস ব্রেইন অ্যাথলেট একাডেমি থেকে ‘ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমরি’ খেতাব অর্জন করেছেন যশোরের শিক্ষাবিদ, সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট, মাইন্ড প্রোগ্রামার এবং আইডিয়া (ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট, এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাচিভমেন্ট) এর প্রতিষ্ঠাতা মো. হামিদুল হক। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অর্জন উদযাপন উপলক্ষে শনিবার উত্থান ও সমৃদ্ধি এর উদ্যোগে যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘মন ও মস্তিষ্কের উৎকর্ষে মাইন্ড প্রোগ্রামিং’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার ও সম্মাননা অনুষ্ঠান। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হামিদুল হক। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি আইডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দক্ষতা, নেতৃত্ব, মানসিক বিকাশ ও আত্ম-উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ’হামিদুল হকের সাথে উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করুন’, যেখানে মাইন্ড প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তির উন্নয়ন, স্ক্যান মেমোরি, স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা, মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত জীবন গঠনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সম্প্রতি মাইন্ড প্রোগ্রামিংয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ইউএস ব্রেইন অ্যাথলেট একাডেমিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুইবারের মেমোরি চ্যাম্পিয়ন রন হোয়াইট-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছরের নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমরি’ অর্জন করেন। সেমিনারের কী-নোট উপস্থাপনায় মো. হামিদুল হক বলেন, “মাইন্ড প্রোগ্রামিং মানুষের চিন্তা, অভ্যাস ও মানসিক কাঠামোকে ইতিবাচকভাবে রূপান্তরিত করতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে যে-কোনো বয়সের মানুষ পরিকল্পিত, আত্মবিশ্বাসী ও লক্ষ্যভিত্তিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হন। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত স্মৃতিশক্তি অর্জনও সম্ভব।” অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, করপোরেট ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ও শিল্পোদ্যোক্তারা মাইন্ড প্রোগ্রামিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক সক্ষমতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক চিন্তাধারা এবং স্মৃতিশক্তির বিকাশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অতিথি বক্তা ড. ফ্রোডে ভ্যান ডার লাক (পিএইচডি, এআই ও ডিজিটাল অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ; প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গবেষক; অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নরওয়ের এনটিএনইউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত) বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে তার চিন্তাশক্তি, শেখার সক্ষমতা ও মানসিক অভিযোজন ক্ষমতা। তাই মস্তিষ্কের কার্যকর ব্যবহার ও মাইন্ড ডেভেলপমেন্টের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।” সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসানাত মো. আহসান হাবীব, গ্রোয়িং টুগেদার ওপিসির নির্বাহী চেয়ারম্যান এস. আনোয়ার হোসেন, এবং ব্রেভ হর্স ভেঞ্চারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর খুলনার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. খ. ম. রেজাউল করিম । এছাড়া অনুষ্ঠানে যশোরের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হাসপাতাল প্রধান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে মাইন্ড প্রোগ্রামিং একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের প্রথম ‘ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমরি’ অর্জনের এ ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে কেক কেটে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা এ অর্জনকে দেশের জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ দেশের তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মানসিক বিকাশ, আত্ম-উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।