ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

তৃতীয় লিঙ্গের কাউন্সিলর দিথী খাতুন সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চান

Published : Wednesday 03-February-2021 21:34:10 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৭:২১:৪৬ am

আতাউর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা): সরকারি অনুদান গরিব দুখি মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সব সময় তাদের পাশে থাকতে চান কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে নবনির্বাচিত নারী কাউন্সিলর তৃতীয় লিঙ্গের দিথী খাতুন। তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় লিঙ্গের বিশেষ সম্প্রদায়ের দিথী খাতুন কলারোয়া পৌরসভার ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করার পর মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ। ইতোমধ্যেই সকলেই জেনে গেছেন দিথী খাতুনের নাম। নারী কাউন্সিলর হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের দিথী খাতুনের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘আংটি’। তিনি ২০৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনা আক্তার ‘জবাফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১৮৩ ভোট। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দিতি খাতুন সর্বপ্রথম চুড়ি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। সেই নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। এবারও অদম্য দিথী খাতুন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন আংটি প্রতীক নিয়ে। আর এবার তিনি বিজয়ের হাসি হাসলেন। এই সংরক্ষিত আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা ছিলেন, আনারস প্রতীকে মোছা. শাহানাজ খাতুন, চশমা প্রতীকে রূপা খাতুন, জবাফুল প্রতীকে হাসিনা আক্তার ও টেলিফোন প্রতীকে জাহানারা খাতুন। দিথী খাতুনের বিজয়ে উল্ল¬াস প্রকাশ করে বিশেষ সম্প্রদায়ের সদস্য নূপুর খাতুন জানান, দিথী খাতুন আমাদের গুরু মা। সবাই তাকে ভোটে দাড় করায় দিছে। এটা আমাদের জন্যি না হলিয়ো গরিব- দুখি মানুষের জন্য তিনি পাস করেছেন। এতে আমরা খুশি। দিথী খাতুন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, তার আশা ছিলো তিনি এবার নির্বাচনী বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন। তার বিশ্বাস, জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় চলে আসা। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থেকে সেবা করা। সমাজের মূল ধারার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তারাও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্র“তিশীল। দিথী খাতুন বলেন, তার পৈতৃক নিবাস যশোর সিটি কলেজ এলাকায়। বাবার নাম আব্দুল হামিদ মিয়া এবং মায়ের নাম কুলসুম বেগম। তারা ৩ ভাই ও ১ বোন। তিনি সবার ছোট। ভাই ৩ জনের কোনো সমস্যা নেই। কেবলমাত্র তার পরিবারে তিনি বিশেষ সম্প্রদায়ের। অন্যরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। দিথী খাতুন বলেন, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর তিনি পরিবার ছেড়ে চলে আসেন সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। সেখানে মিশে যান তার গোত্রীয় অন্যদের সাথে। এভাবে চলতে থাকে পথ পরিক্রমা। কলারোয়া পৌরসভার মির্জাপুরে ৮ শতক জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে শুরু করেন বসবাস। নিজ গোত্রীয় মানুষের সাথে মিলে চলতে থাকেন। ১৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয় ও লালন পালন করেন তিনি। সবাই তাকে গুরু মা বলে ডাকে। স্থানীয়রা ভালোবেসে কেউ ডাকেন খালা মা, কেউ ডাকেন নানি আপা। ছোট্ট শিশুরাও তাকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে। তিনিও শিশুদের খুব ভালোবাসেন। এলাকায় সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু করেন সামাজিক জীবন।