ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১ কার্তিক ১৪২৮

সরকারি জমি পেলেও ৫ বছরে দখল পাননি নবিরন খাতুন

Published : Tuesday 02-February-2021 16:00:37 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৫:৫৯:২২ am

মাগুরা প্রতিনিধি : নাম নবিরন খাতুন। বয়স ৬৪। বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তেলিপুকুর গ্রামে। স্বামী চুন্নু মিয়া।  ভুমিহীন নবিরণ খাতুন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এখনও জীবন যাপন করেন জরাজীর্ণ বাড়িতে। স্বপ্ন দেখতেন শেষ বয়সে ফুটো টিনের পরিবর্তে একটু ভালো ঘরে থাকবেন। সে স্বপ্ন পূরণ হওয়াতো দূরের কথা আশ্রিত জমিও বিক্রি হয়ে যায়। কোথায় যাবেন ভেবে না পেয়ে পাগলের মত ছোটেন সরকারি দফতরগুলোতে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘর নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে কবুলিয়ত খাস জমি পান তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বৎসর পেরিয়ে গেলেও এখনও দখল পাননি। মেলেনি সরকারি সহায়তা। উল্টো তাকে গালিগালাজ, ধামকি শুনতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দশ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন নবিরন। পরের জায়গায় কোন রকম ঘর পেতে এক ছেলে নিয়ে বসবাস করেন। কখনও খাবার জোটে, কখনও জোটে না। ৪০দিনের কর্মসূচীসহ বিভিন্ন জায়গায় মাটি কাটার কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন কাজে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তবুও ভিক্ষা করেন না। ২৫/২৬ বছর আশ্রয় নেয়া জমিও এখন বিক্রি হয়ে গেছে। যে কোন সময় তার ওই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। এখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

নবিরন বলেন, আমার দশটাকার একখান কার্ডও নাই, ভিজিএফ কার্ডও নাই ।

তিনি বলেন ‘বিধবা ভাতা বানাবো তাও বলে ৫/৬ হাজার টাহা লাগবি। এন্নে আমার কাছে টাহা নাই বাজান। আমি এহন কি হরব। কোনো ধকল নাই। পরের জায়গায় থাকিরে বাজান, এট্টু জাগা জমি নাই। বিভাগ কমিশনার জমিডা দিছিল। আপনারা মনে হরেন বিটি ভিক্ষে হরে খায়। না বাজান ভিক্ষে হরে খাইনে। সারাজীবন কাম হরে খাইছি। আমার জমিডা আমারে এহন কেউ বুঝে দেয়না। অফিসি গিলি কয় তোমার বাপের জমি নাহি। আমারে বিশ্রি কতাবাত্তারা কয়। সরকার জাগার ঘর নাই তাগারে জমি দিচ্ছে, ঘর দিচ্ছে। আমি জমিও পালাম না, ঘরও পালাম না।’

মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাবেয়া বেগম বলেন, নবিরন নেছা সরকারিভাবে জমি পেয়েছে। কিন্তু দখলে যেতে পারছে না। আমি আগের ইউএনও স্যারের কাছে বলেছিলাম তার দখল বুঝায়ে দেয়ার জন্য।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, সে আবেদন দিলে তার কাগজপত্র দেখে জমির দখল দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, অনেকে আছে তাদের সামর্থ নাই জমিতে যাওয়ার। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দিলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।