ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

৯৯৯ নম্বরে কল : মণিরামপুরে নির্যাতিতা গৃহবধূ উদ্ধার

Published : Saturday 31-July-2021 23:14:16 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১২:০৭:৪৫ pm

মণিরামপুর প্রতিনিধি : মণিরামপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে চাচাত দেবর আরশাদ আলী ও তার লোকজন গৃহবধূ সালমা খাতুনকে বেধড়ক মারপিটের পর ঘরে আটকিয়ে রাখে। এ সময় কোনো কুলকিনারা না পেয়ে সালমাকে উদ্ধারের জন্য তার স্বামী রমজান আলী বিকেল ছয়টার দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা পেয়ে থানা পুলিশ তড়িৎগতিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আরশাদ আলীর জিম্মিদশা (বাড়ি) থেকে আহত অবস্থায় গৃহবধু সালমা খাতুনকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরশাদ ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম রসুল জানান, উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের গাঙ্গুলিয়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী ও তার চাচাত ভাই আরশাদ আলীর মধ্যে জমিজমাসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে দীর্ঘদিন বিবাদ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে রমজান আলীর বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করা নিয়ে স্ত্রী সালমা খাতুনের সাথে আরশাদ আলীর বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে এক পর্যায়ে আরশাদ আলী ও তার লোকজন সালমা খাতুনকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে সালমা খাতুন দুইহাত এবং মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ অবস্থায় সালমা খাতুনকে আরশাদ ও তার লোকজন ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে। অবশ্য এ সময় বাড়িতে ছিলেননা সালমার স্বামী রমজান আলী। খবর পেয়ে সালমার বড়ভাই শরিফুল ইসলাম আসেন বোনকে উদ্ধারের জন্য। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এসময় তারা শরিফুলকেও মারপিটের পর বোনের সাথে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে।
এ দিকে খবর পেয়ে সালমার স্বামী বাড়িতে এসে তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। সালমার স্বামী রমজান আলী জানান, চাচাত ভাই আরশাদ অতন্ত দুর্ধর্ষ হওয়ায় তার জিম্মদশা থেকে স্ত্রী ও শ্যালককে উদ্ধারের জন্য তিনি বিকেল ছয়টার দিকে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে হেডকোয়ার্টার থেকে মনিরামপুর থানাকে নির্দেশনা দেন জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা পেয়ে থানা পুলিশের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নির্দেশনা পাবার সাথে সাথেই খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম রসুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযান চালিয়ে আরশাদের বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় সালমা খাতুন ও তার ভাই শরিফুলকে উদ্ধার করে। এর মধ্যে সালমার অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরশাদ ও তার লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
 



আরও খবর