ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের চিরবিদায়

Published : Saturday 24-July-2021 12:42:20 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১২:০৩:৪৬ pm

বিনোদন ডেস্ক : গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই। করোনার কাছে হেরে গেলেন এই প্রথীতযশা শিল্পী। ফকির আলমগীর শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় খিলগাঁও পল্লীমা সংসদ প্রাঙ্গনে ফকির আলমগীরের প্রথম নামাজে জানাজা হবে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বাদ জোহর খিলগাঁও মাটির মসজিদ প্রাঙ্গণে। এরপর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।
ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা।
তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ইউনাইটেড হাসপাতালের গণমাধ্যম কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান শুভ জানান, ১৮ জুলাই থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ফকির আলমগীর। এর আগে করোনা পজিটিভ হওয়ায় ১৫ জুলাই রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কভিড ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়। রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালের কভিড আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ ডাক্তার আমিনা সুলতানা শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যু ঘোষণা করেন।  
ফকির আলমগীর কালামৃধা গোবিন্দ হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে সংগীত চর্চা করেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি বাঁশীবাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তার গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন –সংগ্রামে এবং ’৬৯-এর গণ –অভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। গণ– অভ্যুথান, ’৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০– এর সামরিক শাসন বিরোধী গণ –আন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তার গান দিয়ে। ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ফকির আলমগীরের গাওয়া ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। এ ছাড়া তার গাওয়া ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’,  ‘বনমালী তুমি’  ‘কালো কালো মানুষের দেশে’, মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘আহারে কাল্লু মাতব্বর’, ‘ও জুলেখা’সহ বেশ   কিছু গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
তিনি বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি, জনসংযোগ সমিতির সদস্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়। এ ছাড়াও তিনি ‘শেরে বাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’ লাভ করেন।