ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

‘জিয়া-এরশাদ-খালেদা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো না’

Published : Sunday 29-August-2021 22:35:58 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০০:২৯:১১ am

স্পন্দন ডেস্ক : জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া এরা কেউই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় এবং সাধারণ মানুষের উন্নতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যারা পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসে তারা তো অনেক বড় বড় কথা বলেই এসেছিল। জাতির পিতার প্রতি অনেক কুৎসা রটনা করেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনাগুলো নষ্ট করেছিল। তারা তো দেশের উন্নয়নে কাজ করেনি। কারণ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করত না।

“জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া এরা কেউই বাংলাদেশের স্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উন্নতিতেও বিশ্বাস করে না। তাই যদি করত তাহলে ১২ বছরের মধ্যে আমরা যেটা করতে পেরেছি, ২১ বছরে তারা তা করতে পারত, করেনি। কারণ তারা করবে না।”

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা একটা স্বপ্ন নিয়েই এই দেশকে গড়তে চেয়েছিলেন। তার স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশটা উন্নত, সমৃদ্ধ হবে এবং বিশ্বের বুকে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর তিনি সময় পেয়েছিলেন। হাতে সময় ছিল না, সময়ই দেয়নি।

“কিন্তু এই সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটা স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরে যারা অবৈভভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে এবং মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল করে, একের পর এক ছিল ক্ষমতা দখলের পালা। ২১টা বছর এদেশের মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “২১টা বছর এদেশের মানুষের জীবনের কোনো উন্নয়নের দিকে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা তাকায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ভোগের বস্তু ছিল, লুটপাটের জায়গা ছিল। নিজেদের আগের গোছানোর ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে অবহেলিত সেই অবহেলিত থেকে যায়। বাংলাদেশ যতটুকু জাতির পিতা করে গিয়েছিলেন তার থেকেও পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়।”

দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া নানা পদক্ষেপ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান সরকার প্রধান।

কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্ত থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিমান বাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানে তিনি সাগরের অংশ ভরাট করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১০ হাজার ৭০০ ফুট দীর্ঘ এই রানওয?ের ১৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের ভেতরে। ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরকে ছাড়িয়ে তখন সেটাই হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে।

অনুষ্ঠনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর, এই বিমানবন্দরটাকেও আমরা উন্নত করতে চাইছি। একটা আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে যেন উন্নত হয়, যাতে ভুটান ,নেপাল বা ভারতের কয়েকটা রাজ্য এই বিমাবন্দরটা ব্যবহার করতে পারে।

“আর সিলেট, সেটা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানেও মেঘালয়, আসাম বা ভারতের অনেক রাজ্য থেকে তারা আমাদের এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরটাও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানেও ত্রিপুরা থেকে শুরু করে ভারতের অনেক প্রদেশ আমাদের এটা ব্যবহার করতে পারে।”

কর্মকর্তাদের ‘সততার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে ’ বিমানবন্দর পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা থেকে শুরু করে, আমি বলব যে একটা আন্তর্জাতিক মানের যাতে হয়, সেটা আপনারা দেখবেন।”

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক  বিমানবন্দর যেন অত্যাধুনিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে, সেজন্য তৃতীয় টার্মিনাল তৈরির কাজ চলার কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।

কক্সবাজার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুব প্রিয় জায়গা ছিল এবং কারাগারে না থাকলে প্রতিবছর তিনি পরিবার নিয়ে একবার হলেও সেখানে যেতেন বলে অনুষ্ঠানে জানান তার মেয়ে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “অনেক চিন্তা, পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার নিয়ে তো আরো বেশি। কক্সবাজার হবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সি বিচ এবং পর্যটনকেন্দ্র এবং অত্যন্ত আধুনিক শহর। সেইভাবে পুরো কক্সবাজারটা কে আমরা উন্নত,সমৃদ্ধ করব।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ এমনভাবে হচ্ছে, যাতে বড় বড় উড়োজাহাজও সেখানে নামতে পারে, রিফুয়েলিং করতে পারে।

কক্সবাজারকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “এটাকে আরো আধুনিক, সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র আমরা করব। সেখানে সকলে এসে যেন আমাদের দেশটাকে উপভোগ করতে পারে। আর তাছাড়া এটা হলে আমরা আর্থিকভাবে অনেক সচ্ছল হবো। সেদিকেও আমাদের দেখতে হবে।”

দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে বিমানের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথাও অনুষ্ঠানে বলেন শেখ হাসিনা।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে এ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বক্তব্য দেন।

বিমান বাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



আরও খবর