ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

শরণখোলা হাসপাতালে আরএমওই সব

Published : Wednesday 03-March-2021 22:06:19 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০০:১১:৩৬ am

শরণখোলা (বাগেরহাট ) প্রতিনিধি :  বাগেরহাটের শরণখোলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে কনসালটেন্ট, মেডিসিন, সার্জারী, গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ ১৩ চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি ৮ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। এছাড়া ওয়ার্ড বয় তিন জন থাকার কথা থাকলেও আছে দুই জন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাঁচ জনের স্থানে আছে একজন। আয়া নেই ও প্যাথলজিস্ট নেই। এক্স-রে এবং ইসিজি মেশিন নষ্ট। অপারেশন থিয়েটারের (ওটির) যন্ত্রপাতি থাকলেও সেখানে কোনো অপারেশন হয় না। থিয়েটারটি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে যাচ্ছে সরকারের মূল্যবান প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্যের (আরএমও) ডা. মো. ফয়সাল আহম্মেদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ট্রেনিংয়ে, ডাক্তার নাদিয়া নওরিন ছুটিতে, করোনা পরিস্থিতির জন্য ডা. সিরাজুল ইসলাম র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে এবং ডা. তরিকুল ইসলাম এখান থেকে বদলী হয়ে গেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, শিশু ও এনেস্থিশিয়ার পদে কোনো ডাক্তার পোষ্টিং না থাকায় শূন্যের কোঠায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালের ডাক্তার সংখ্যা। যে কারণে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে খুব দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন।

৩ মার্চ বুধবার সকাল ১১টার দিকে  শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, সরকারি ফি পরিশোধ করে টিকিট সংগ্রহ করার পরে ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে অনেক সময় ধরে বহির্বিভাগে অপেক্ষায় রয়েছেন, শ্বাসকষ্টসহ বুকে ব্যাথা নিয়ে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলার পাড় গ্রামের বাসিন্দা আ. মান্নান শিকদার (৭৬), হাত-পা ফুলা নিয়ে কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা আ. হামিদ হাওলাদার (৭০) সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নানা বয়সের রোগী।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা উপজেলার দক্ষিন রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে রোগীরা বসে থাকেন এবং অনেক সময় ডাক্তার দেখাতে না পেরে আবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। রোগী মহারাজ শেখ (৮৫) জানান, জীবনের শেষ বয়সে ছিন্নমূল অবস্থায় তার দিন কাটছে উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত দুই দিন শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছি কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারেনি। 

বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির জানান, ডাক্তার সংকটের বিষয়টি আমার জানা আছে। তবে দেশ জুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের সংকট থাকায় ওই পাঁচ পদে কনসালটেন্ট ডাক্তার দেয়া যাচ্ছে না। শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আপতকালীন সংকট উত্তরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশাকরি শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।