ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

শরণখোলায় ভেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কিত উপকূলবাসী

Published : Thursday 27-May-2021 20:54:36 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৩:২৩:২২ am

আ.মালেক রেজা, শরণখোলা (বাগেরহাট) : ঝড়-জলোচ্ছাস, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকুলীয় জনগোষ্ঠীর এক প্রকার রক্ষা কবজ শরণখোলা উপজেলা ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পাউবোর ৩৫/১ পোল্ডারের ভেড়িবাঁধটি মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে নির্মাণ করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উপকুলবাসীর মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাঁধের উপরের অংশে সামান্য মাটির ব্যবহার করলেও বাঁধের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। জানাগেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৭ সালে  ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার দৈঘ্যের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন চায়নার (এইচ. সি. ডব্লিউই) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পার্শবর্তী উপজেলা মোড়েলগঞ্জের খাউলিয়া ইউনিয়নসহ শরণখোলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে  ৬৩ কি.মি. বাঁধের মধ্যে ১৯৮৪ সালে নির্মিত বলেশ্বর ও ভোলা নদীর সাথে সংযুক্ত খালগুলোর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎকালীন সরকারের নির্মানাধীন জরাজীর্ণ ৩২টিসহ প্রায় অর্ধশত স্লইজগেইট (জলকপাটের) নুতন করে নির্মাণ কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মেঘা এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তেমন নজরদারি না থাকায় ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা মাটির পরিবর্তে বাঁধের পাস থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে স্লুইচগেইটসহ কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রাস্তা (বাঁধ) নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে, বাঁধের  বগি-তেড়াবেকা, চাল-রায়েন্দাসহ বেশ কয়েকটি অংশে ব্লক না বসানোর কারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষার হাতিয়ার পাউবোর এই বাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকুলীয় জনগোষ্ঠী। তাছাড়া বাঁধের পাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় উপজেলাবাসীর টেকসই ভেড়িবাঁধ অনেকটা  হুমকির মুখে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে  স্থানীয়রা ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ঠিকাদারদের একটি সুত্র জানায়, প্রতিটি স্লুইজগেট নির্মাণের পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও  তার পরিবর্তে লক্ষ লক্ষ ফুট (সি.এফ.টি) নি¤œ মানের বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে । ওই গেইট গুলো ছেড়ে দেওয়ার পর তা থেকে পানি নিঃস্কাশন শুরু হলে ভবিষ্যতে তা  লিক করে ভিতরে পানি প্রবেশ করে বালু সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্লুইজগেট গুলো এলাকাবাসীর কোন  কাজে   আসবে না । এছাড়া বাঁধের উপরের অংশে সামান্য কিছু মাটি দিলেও কোন ধরনের পরীক্ষা না করেই ময়লা যুক্ত কাঁদা সহ স্যাত স্যাতে মাটি দিয়ে ভেড়িবাঁধে প্রলেভ দিয়ে অনেকটা দায় সারছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, উপজেলার তাফালবাড়ি, চালিতাবুনিয়া, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বালু লুট করলেও রহস্যজনক কারণে তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না  এবং বাঁধে বালুর ব্যাবহার  বন্ধসহ প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানতে না পারলে শরনখোলাবসীর কোন উপকারে আসবে না এই ভেড়িবাঁধ।

তবে, প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা (মান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা) প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্প এলাকায় উপযুক্ত মাটির সংকট রয়েছে এবং বাঁধের নিচের অংশে বালু দেয়ার নিয়ম আছে। তাই  বন্যায় বাঁধের কোন সমস্যা হবে না। পানি উন্নয়ন র্বোড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এ ক্ষেত্রে পাউবোর বাগেরহাট অফিসের কিছুই করণীয় নেই। কারণ প্রকল্পটি শেষ  হলে আমাদেরকে শুধু  মাত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে । 



আরও খবর