ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ২ আশ্বিন ১৪২৮

রাজারহাট চামড়া বাজারে বেচাকেনা কম, হতাশ ব্যবসায়ীরা

Published : Saturday 24-July-2021 22:15:31 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ১৩:৫৮:২১ pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকার গোপাল চন্দ্র দাস শনিবার যশোরের চামড়ার মোকাম রাজরহাটে এক হাজার পিস গরু ও ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও সব চামড়া বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত, কিন্তু চামড়ার এ রকম দরপতন আগে কখনও দেখিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা, লবণ লাগানো এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে চামড়ার দাম প্রতি পিস ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা পড়েছে, সেই প্রায় একই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

নড়াইল জেলার লোহাগড়া এলাকার ব্যবসায়ী সরনাল বিশ্বাস জানান, তিনি ৬শ’ পিস গরুর চামড়া এনেছেন। বড় চামড়া বিক্রি করেছেন ৮শ’ টাকায়, আর ছোট চামড়া ৪-৫শ’ টাকা পিস হিসেবে। এতে আমার কোনো রকম পূঁজি বেঁচেছে।

খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম ছিল কম। ঈদের প্রথম হাটবার ছিল শনিবার। হাটে চামড়াও উঠেছে অল্প পরিমাণ। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকা না দেয়ায় কাক্সিক্ষত পরিমাণ চামড়া কিনতে পারেননি তারা। আবার গতকাল সকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং লকডাউনের কারণে চামড়ার দাম কমে গেছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হবেন।

ঈদের পরদিন রাজারহাট শনিবার হাট ছিল ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম। তবে সেই তুলনায় চামড়ার যোগান ছিল কম। যশোরের মণিরামপুরের জীবন দাস জানান, তিনি ২২ পিস ছাগলে চামড়া হাটে এনেছিলেন। প্রতি পিস চামড়া কেনা ছিল ৪০ টাকা। এতে লবণ ও পরিবহন খরচ আছে। কিন্তু বিক্রি করেছেন ৪০ টাকা পিস হিসেবে। এতে তার লোকসান হয়েছে। অভয়নগর উপজেলার হরিচাঁদ দাস জানান, তিনি ২৪ পিস গরুর চামড়ার মধ্যে ১০ পিস বিক্রি করেছেন ৫শ’ টাকায়। আর ১৪ পিস ৩শ’ টাকা হিসেবে। অথচ তার কেনা ছিল প্রতিপিস ৫শ’ টাকায়। বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। একই উপজেলার পবন বিশ্বাস জানান, তিনি ৪৩০ পিস গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৯শ’ টাকা করে। এতে তার লোকসান না হলেও কোণ লাভ হবেনা। কেননা কেনা ও লবণ পরিবহন খরচ মিলিয়ে একই দাম পড়ে গেছে। যশোরের আড়তদার মোস্তাক আহমদ জানান, তিনি গতকাল এক হাজার পিস গরুর চামড়া কিনেছেন গড়ে ৬শ’ টাকা হিসেবে। এতে ঢাকায় বিক্রি করলে তার লাভ হবে।

যশোরের ব্যাপারী শের্ফাড আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা পরিশোধ না করায় সব ব্যাপারি নগদ টাকার সংকটে রয়েছেন। যে কারণে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণেও আজ হাট জমেনি।

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজারহাট ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকার উপরে পাওনা রয়েছে। মূলত নগদ টাকার সংকট এবং গতকাল বৈরি আবহাওয়ার কারণে রাজারহাটে চামড়ার হাট তেমন জমেনি। তারপরেও নগদ টাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকার বেঁচাকেনা হয়েছে।

হাটের ইজাদার হাসানুজ্জামান হাসু জানান, ৩-৪ বছর আগেও রাজারহাটে কোরবানী ঈদের হাটে অন্তত লাখ পিস গরুর ও ৫০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া আসত। এখন আসছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পিস গরু ও ২৫ হাজার মতো ছাগলের চামড়া। বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পূঁজি সংকটের কারণে হাট তেমন জমেনি।



আরও খবর