ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ১০ কার্তিক ১৪২৮

যশোরে বাচ্চু গাজী হত্যায় সেই রিকসা চালক আটক, স্বীকারোক্তি

Published : Thursday 24-June-2021 22:09:51 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ১১:০১:৪৩ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে বাচ্চু গাজী হত্যা মামলার সন্দেহভাজন সেই রিকসা চালককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে শহরের পূর্ববারান্দী মাঠপাড়ার ভাড়াবাড়ি থেকে তাকে আটক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আকিকুল ইসলাম।

ওই রিকসা চালকের নাম সুমন। তিনি ওই এলাকার লাল মিয়া ওরফে লালুর ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিকের কাছে তিনি হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত ওই জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুমন রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে বাচ্চুসহ তিনজন সুমনের রিকসা ভাড়া করে চাঁচড়া চেকপোস্টে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। খোলাডাঙ্গা সার গোডাউনের সামনে পৌছালে অস্ত্র দেখিয়ে তার রিকসা ছিনতাই করে একজন নিয়ে যায়। আরেকজন একটি ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করতে যায়। সে সময় তিনি ওই ছুরি কেড়ে নিয়ে উল্টো তাকে আঘাত করেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সুমন ছুরি পেলে পালিয়ে যান।

উল্লেখ, গত ১০ মার্চ যশোর সকালে উপজেলার খোলাডাঙ্গা মুন্সিপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ বাচ্চু গাজীর লাশ উদ্ধার করে। নিহত বাচ্চু গাজী যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা কামালপুরে গ্রামের রবিউল গাজীর ছেলে। বাচ্চু উপজেলার মোবারককাঠি দিঘিরপাড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তিনি পেশায় লেদমিস্ত্রি ছিলেন। এছাড়া বাচ্চু গাজী মণিরামপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর তার বুক, মাথা, পিঠ ও কোমরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া যায়। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী  সালমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী বাচ্চু মুড়লীর মোড়ে নিজাম উদ্দিনের কারখানায় কাজ করেন। তারা শহরতলীর মোবারককাঠি এলাকার চাকলাদার ফিলিং স্টেশনের পেছনে দুই মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন। গত ৯ মার্চ তার স্বামী একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। কোর্ট শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর দুপুরের খাবার শেষে ফের সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাইরে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকাল ১০টার দিকে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীর মরদেহ খোলাডাঙ্গা মুন্সিপাড়ার শামছুল হকের ধানক্ষেতে পড়ে আছে। পরে পুলিশ ওই রিকসা উদ্ধার করে। একই সাথে সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে। সর্বশেষ সুমনকে বুধবার রাতে আটক করে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে।