ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

ভারত ভ্রমণের শর্ত শিথিল

Published : Monday 16-August-2021 22:06:59 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৪:২২:০৭ am

শার্শা প্রতিনিধি: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন থেকে করোনা টিকার ডাবল ডোজ গ্রহণকারী পাসপোর্টধারীদের ভারত থেকে ফেরার পর আর ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। এছাড়া ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে লাগবে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র।

যাদের ডাবল ডোজ টিকা নেয়া হয়নি তাদের ভারত থেকে ফেরার পর ১৪ দিন থাকতে হবে হোম কোয়ারেন্টাইনে। হোম কোয়ারেন্টাইন সুবিধা নিতে যাত্রীদের সাথে রাখতে হবে টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের সনদ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাবের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ। তবে দ্বিতীয় ডোজ না নেয়া যাত্রীদের থাকতে হবে হোটেল কোয়ারেন্টিনে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বেশ খুশি যাত্রীরা। এর আগে যাত্রীদের ব্যক্তিগত খরচে আবাসিক হোটেলে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন থাকতে হচ্ছিল প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। এতে অসহায় হয়ে পড়ছিলো যাত্রীরা।

বেনাপোল ইমগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসা ও বাণিজ্যের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে প্রতিদিন প্রতিবেশী দেশ ভারতে যান প্রায় ৭-৮ হাজার যাত্রী। ভারত থেকেও ভ্রমণ, শিক্ষা ও চাকরির জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশে আসেন পাঁচ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক।

চলমান করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে গত ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার ভারত ভ্রমণে বিধি-নিষেধ জারি করে। তবে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সচল রাখা হয় মেডিকেল ভিসা। ভারতফেরত যাত্রীদের দেশে ফেরামাত্র ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে টাকার অভাবে অনেকে সমস্যায় পড়েন। এছাড়া গুরুতর জটিল রোগে আক্রান্তরা হোটেল আর হাসপাতাল কোয়ারেন্টিনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে টিকা গ্রহণকারী আর করোনা নেগেটিভ যাত্রীদের দাবি ছিল হোম কোয়ারেন্টিন। তবে প্রথম থেকেই ভারতের পেট্টাপোল ইমিগ্রেশনে ছিল না কোয়ারেন্টিনের কোনো নিয়ম।

ভারত থেকে আসা যাত্রী আনারুল ইসলাম জানান, ভারতে যাওয়ার আগে তিনি টিকার ডাবল ডোজ গ্রহণ করেছিলেন। এখন ফিরে হোম কোয়ারেন্টিনের সুযোগ পেয়েছেন।

ভারত থেকে আসা আনিছুর রহমান নামে অপরজন বলেন, ‘আমি এক ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে ভরতে যাই। এখন ফিরছি। ডাবল ডোজ পূর্ণ না হওয়ায় হোম কোয়ারেন্টিনের সুবিধা পাচ্ছি না।’

অপরদিকে ভারতগামী যাত্রী আশরাফ আলী জানান, ‘ভারতে যেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র এনেছিলাম, কিন্তু তা লাগেনি। ছাড়পত্র ‘ম্যানেজ’ করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমি দুই ডোজ টিকা নিয়েই ভারতে যাচ্ছি।’

শার্শা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেয়ে তারা রোববার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছেন। ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগবে না। শুধু ভিসা, দুই ডোজ টিকা আর করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলে যাওয়া যাবে। ভারত থেকে ফিরে আসার সময় যাদের করোনা টিকার দুই ডোজ নেয়া আছে তারা বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তবে ফেরার আগে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের অনুমতি লাগবে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, রোববার ভারত থেকে ফিরেছেন মেডিকেল ভিসাধারী ৯০ জন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে ১১ জনকে, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৭৯ জনকে। ট্যুরিস্ট ভিসায় যাতায়াত আপাতত বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বন্দরে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।



আরও খবর