ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

প্রথমে পুলিশ পরে আদালতে গেলেন গরু মালিকরা

Published : Monday 30-August-2021 21:25:34 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৭:২৪:৩৯ am

গরু নিয়ে কাণ্ড

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: গরু ফেরত পেতে এবার আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন ঝিনাদহের কালীগঞ্জের চার গরু মালিক। ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া গ্রামের একটি বাঁশ বাগান থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয়টি গরু উদ্ধার করে। যার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। এরপর গরুর প্রকৃত মালিকদের খোঁজ পেতে বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তা পাঠায় কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। ছয় গরুর মালিকানা দাবি করে একাধিক ব্যক্তি থানায় আসলে পুলিশ সঠিক মালিকানা নিশ্চিতে আদালতের আশ্রয় নেয়। এতে আইনের জটিলতায় পড়ে যায় মালিকরা। বাধ্য হয়ে মালিকরা ২৩ আগস্ট আদালতের দ্বারস্থ হলে ২৬ আগস্ট পুলিশ তার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ নিয়ে পুলিশের দাবি, তারা  চারজন ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি গরুর মালিকানা দাবি করাতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আর মালিকানা দাবিকৃতদের অনুযায়ী তারা ৪ জন ছাড়া আর কেউ গরুর দাবি করেনি। তারপরও পুলিশ তাদেরকে গরু ফেরত না দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে নাজেহাল করছেন। বর্তমানে ওই গরুগুলো ঝিনাইদহ কোর্টের হেফাজতে রয়েছে। গরুর মালিকানা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ চার জন হলেন, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমানের তিনটি, মুন্নার একটি, ঢাকালে পাড়ার পারভেজ রহমান রচির একটি ও পৌরসভার পানির লাইনের কর্মচারী নুর ইসলাম একটি গরু।

কালীগঞ্জ থানার এস আই সুজাত হোসেন জানান, ১৮ আগস্ট উদ্ধারকৃত ৬ টি গরু থানায় আনার পর জিডি ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানাতে বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়। সেই সাথে প্রকৃত গরুর মালিকদের প্রমাণাদিসহ থানাতে যোগাযোগের আহব্বান জানান। তিনি জানান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক মানুষ গরুগুলো দেখতে আসেন। এ সময়ে স্থানীয় চারজন ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি মৌখিকভাবে গরুগুলোর মালিকানা দাবি করছিল। এতে দ্বিধাদ্ব›েদ্ব পড়ে পুলিশ বাধ্য হয়ে পরদিন গরুর মালিকানা নিশ্চিত করতে একটি জব্দ তালিকা করে ঝিনাইদহে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ ঘটনায় দাবিকৃত মালিকগণের আদালতে দায়ের করা অভিযোগের প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য গত ২৫ আগস্ট থানায় আসেন। তিনি পুনরায় তদন্ত শেষে পরদিনই ওই প্রতিবেদনের জবাব আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, গরুর দাবিকৃত মালিকগণ উপযুক্ত প্রমানদি দেখাতে পারেনি। তাই উপযুক্ত প্রমাণাদি দিয়েই প্রকৃত মালিকগন আদালত থেকে গরুগুলো গ্রহণ করবেন।

গরু ফেরত পেতে আদালতের আশ্রয় নেয়া গরু মালিকদের মধ্যে মধুগঞ্জ বাজারের এনামুল হক ঈমান জানায়, পুলিশের উদ্ধারকৃত গরুগুলোর মালিক তারা চারজন। উদ্ধারের পর থেকেই তারা বার বার থানায় গেলেও গরু ফেরত দেয়নি পুলিশ। উল্টো দু’দিন পর থানা থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় আদালত থেকেই গরু নিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই তারাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশের আদালতে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনেরও পাল্টা নারাজি পিটিশন দিয়েছেন মালিকগণ।

ক্ষতিগ্রস্ত গরু মালিকেরা আরো জানায়, গরুর মালিক নির্ধারণে কি কি প্রমাণপত্র দিতে হবে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ ভাগ্যক্রমে চোরেদের কবল থেকে গরুগুলো রক্ষা পেলেও এখন আইনি জটিলতায় থানা পুলিশের ভোগান্তিতে নাজেহাল হচ্ছেন। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, গরু পাওয়ার পর থেকে অনেকেই মালিকানা দাবি করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে পড়াতে গরুগুলোর জব্দ তালিকা করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত মালিকগণ সেখানে প্রমাণ দিয়ে গরু নিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া গ্রামের একটি বাঁশ বাগান থেকে পুলিশ  ছয়টি গরু উদ্ধার করে। যার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।



আরও খবর