ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

পাকা বসত ঘরের কবর ভেঙে মাইজভান্ডারী ভক্তের লাশ উত্তোলন, দাফন

Published : Tuesday 31-August-2021 21:28:11 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ০৬:০৯:১৫ am

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার পৌর এলাকার কাশিনাথপুর কারিগর পাড়ায় তৈয়ব মোল্ল্যা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ৯ দিন পর পাকা ঘরের কবর ভেঙে সোমবার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে তা আলেম ওলামাদের উপস্থিতিতে কবরস্থানে ইসলাম ধর্মীয় বিধান মতে দাফন করা হয়।

কাশিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু মোল্যাসহ অন্যরা জানান, কাশিনাথপুরের কারিগর পাড়ার বাসিন্দা মৃত আরজু মোল্যার ছেলে তৈয়ব আলী মোল্যা (৭৫) গত ২২ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তিনি আধ্যাত্মিক ব্যক্তির অনুসারী ও ভক্ত ছিলেন। তৈয়ব আলী মোল্যা অবিবাহিত ছিলেন। একটানা ৩০ বছর তিনি নিরুদ্দেশ  থেকে এক বছর আগে ছোট ভাই কাশেম আলীর বাড়িতে ফিরে আসেন। তৈয়ব আলী সাধারণ মানুষের সাথে কোনো কথা বলতেন না। নিজ হাতে বাড়িতে দুই কক্ষের একটি ঘর তৈরি করেন। যার একটি কক্ষের জানালা থাকলেও আরেকটি কক্ষের শুধু দরজা রয়েছে। স্বজনদের কাছে জানিয়ে যাওয়া তার পূর্ব ইচ্ছে অনুযায়ী মৃত্যুর পর জানালা বিহীন কক্ষে কংক্রিটের মেঝের উপর কবর দেয়া হয়। মরদেহের চারপাশে ইটের দশ ইঞ্চি প্রশস্থ ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘিরে বাইরে দরজা ইট গেঁথে প্লাস্টার করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। তৈয়ব আলীর ঘরের সামনে উৎসুক লোকজন ভিড় করতে থাকে। অন্যদিকে তাকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী কবরস্থানে দাফন করার দাবি জানান এলাকাবাসী। কিন্তু  তৈয়ব আলীর স্বজনরা লাশ নতুন করে বাইরে দাফন না করতে অনড় অবস্থানে থাকলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে জনপ্রতিনিধি ও আলেমদের মাধ্যমে স্বজনদের রাজি করে সোমবার দুপুরে পূর্বের কবরের ওই দেয়াল ভেঙে তৈয়ব আলীর মরদেহ বের করে কাশিনাথপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কাশিনাথপুর কবরস্থান মসজিদের ইমাম উজির আলী জানান, কারিগরপাড়ার বাসিন্দা তৈয়ব আলী (৬৫) মাইজভান্ডারী ও লালন ভক্ত অবস্থায় নিজ ঘরে গত ২২ আগষ্ট দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। গ্রামবাসীরা দাফন করতে চাইলে মৃত ব্যক্তির অসিয়াত মোতাবেক তার ভাতিজা আহাদ আলী জানাজা শেষে জানালা বিহীন একটি পাকা ঘরে রেখে পরদিন দরজা ইট দিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার মাজইভান্ডারী ভক্ত অনুসারীরা ওই ঘরের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে গান বাজনা শুরু করে। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইসলামে এ ধরণের দাফন জায়েজ না থাকায় গ্রামবাসী, আলেম ওলামা, জনপ্রতিধিদের যৌথ উদ্যোগে মৃত্যুর ৯ দিন পর ঘর ভেঙে লাশ কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।

মৃতের ছোটভাই কাশেম আলী মোল্যা জানান, বড় ভাই তৈয়ব মোল্যা মৃত্যুর আগে নিজ হাতে ঘর ও ঘরের মধ্যে কবর তৈরি করে গেছেন। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী লাশ ঘরের মধ্যে দাফন করা হয়েছিল। যেহেতু এটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল তাই মরদেহ বের করে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মরদেহ উত্তোলন করে ইসলামিক বিধি মেনে দাফনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।



আরও খবর