ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ● ৭ কার্তিক ১৪২৮

গরিবের রাজার মূল্য ১২ লাখ টাকা

Published : Thursday 15-July-2021 22:10:20 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ০৯:০০:৪৯ am

মাগুরা প্রতিনিধি : সরকারি আবাসনে সীমাহীন দরিদ্র্যতার মাঝে থেকে ইজিবাইক চালক কাদের মোল্যা পরম যতেœ পালন করেছেন ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকার একটি ষাঁড়। কালো ষাঁড়টির বিশাল দেহ আর রাজকীয় চেহারার জন্য নাম দিয়েছে গরিবের রাজা। যা এবারের কোরবানিতে অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় ষাঁড়ের হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দূর দুরান্ত হতে ষাঁড়টি দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন মানুষ। ভূমিহীন কাদের ষাঁড় বিক্রির টাকায় একমাত্র সন্তানের জন্য একটি বাড়ি করে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জীবনের একমাত্র সম্বল ষাঁড়টি চুরি হওয়ার ভয়ে ইটের দেয়াল তুলে আটকে রেখেছেন তিনি। বিক্রির পরই দেয়াল ভেঙে বের করা হবে গরিবের রাজাকে। কাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশ্রয়নের বাসিন্দারা । তিন বছর আগে রামনগর হাট থেকে শখের বসেই ৩৯ হাজার টাকায় ১ বছর বয়সী একটি ফ্রিজিয়ান এড়ে বাছুর ক্রয় করেন ইজিবাইক চালক কাদের। এর পর থেকে নিজেরা খেয়ে না খেয়ে খাবার জুগিয়েছেন তার। ইজিবাইক চালিয়ে সামান্য আয় উপার্জনের অধিকাংশই অর্থই ব্যয় করেছেন একমাত্র সম্বল ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাড়টির পেছনে। এই তিন বছরে ষাড়টির ওজন প্রায় ২০ মণ বলে তিনি জানান। উচ্চতায় সাড়ে পাঁচ ফুট, সাড়ে সাত ফিট লম্বা চার বছর বয়সী ষাঁড়টির দাম হাকছেন ১২ লক্ষ টাকা। তবে বাজার অনুপাতে ন্যায্য মূল্য পেলেই ষাঁড়টি বিক্রি করবেন তিনি। চুরির ভয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের নিজের টিনের ঘরের সাথে ইটের চার দেয়াল ঘিরে আটকে রেখেছেন সাধের ষাঁড়টি। বিক্রির পর দেয়াল ভেঙে তবেই বাইরে আনা হবে তার গরিবের রাজাকে। করোনা পরিস্থিতিতে তার সে স্বপ্ন পূরণ নিয়ে  চিন্তায় পড়েছেন আশ্রয়ন প্রকল্পের চার বছর বয়সী সাড়ে পাচ ফুট উচ্চতার ষাঁড়টির মালিক দরিদ্র কাদের।

মাগুরা রামনগর দুর্গাপুর আবাসনের বাসিন্দা ষাঁড়ের মালিক দরিদ্র কাদের মোল্যা জানান, অনেক স্বপ্ন ও সাধ করেই তিন বছর আগে ৩৯ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরুর বাছুর কিনে পালন করছেন তিনি। নাম দিয়েছিলেন রাজা স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলে পরম যতেœ লালন পালন করছেন রাজাকে। তার মতো গরিবের সংসারে ষাঁড়টি বেড়ে ওঠার জন্য গরিবের রাজা নাম দিয়েছেন তিনি। ইজিবাইক চালিয়ে সামান্য উপার্জনের অধিকাংশই ব্যয় করেছেন রাজার খাবার জোগাতে। তবে বিদেশি জাতের হলেও দেশীয় পদ্ধতিতেই ঘাস, গমের ভুষি, খুদ ইত্যাদি খাইয়েছেন তিনি। এ বছর কোরবানি ঈদে ভালো মূল্যে বিক্রি করে নিজের সন্তানের জন্য এক টুকরো জমি ও ঘর তুলে দিতে চান কাদের মিয়া। ভাগ্যকে ফেরানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। আবাসনের নিজের টিনের ঘরের কোনে চুরির ভয়ে ইটের দেয়াল ঘিরে গোয়ালে আটকে রেখেছেন রাজাকে। নিজের আসা যাওয়া জন্য সামান্য একটু দরজা রাখা আছে যেখান দিয়ে রাজাকে বের করার উপায় নেই। এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্দি হয়ে আছে শান্ত স্বভাবের রাজা। দেখতে আসা সকলেই গায়ে হাত বুলিতে দিয়ে যায় শান্ত রাজার। ষাঁড়টি বিক্রি করে ভাগ্য বদলাবেন আশায় দিন গুণছেন তারা। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারির কারণে বিক্রির জন্য তেমিন সাড়া পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান। সর্বশেষে লকডাউনের কারণে ইজিবাইক বন্ধ থাকায় নিজের আয়ের পথও বন্ধ। অনেকের থেকে ধার দেনা করেই রাজার খাবার জোগান দিচ্ছেন তিনি। আগেও দেনা হয়ে রয়েছেন।  কিন্তু এখনও বড় শহরের ব্যাপারীরা না আসায় বিক্রির জন্য তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। ঢাকায় বড় হাটে নিয়ে যাবার সে সাধ্যও নেই তার। এ অবস্থায় চার দেয়ালে বন্দি রাজার দেয়াল ভেঙ্গে বের হওয়া ও কাদেরের স্বপ্ন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। কাদের মোল্যা বলেন, গরিব মানুষ আমি। অনেক স্বপ্ন-ষাঁড়টিকে নিয়ে সন্তানের মতো লালন পালন করেছি। এটিই এখন একমাত্র সম্পদ। ষাঁড়টি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য চিন্তায় পড়ছেন। অনেকে অনলাইনে  বেচাকেনার কথা বলছেন। কিন্তু কোন ধারনা না থাকায় রাজার সঠিক মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তিনি। কোরবানির বাজারে ষাঁড়টির ন্যায্যমূল্য পেতে জেলার স্থানীয় ক্রেতাদের  সুদৃষ্টি কামনা করছেন দরিদ্র কাদের মোল্লা।

কাদের মোল্যার ছেলে ইসমাইল জানায়, তার বাবা অধিকাংশ সময় ষাঁড়টির পরিচর্যায় ব্যন্ত থাকেন। এই রাজা তাদের একমাত্র সম্বল। ভালো মূল্যে তা বিক্রি না হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে তাদের।



সর্বশেষ সংবাদ
আরও খবর