ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ● ৭ কার্তিক ১৪২৮

কেশবপুরে মায়ের বিরুদ্ধে সন্তানকে হত্যা ও বসত ভিটা দখলের অভিযোগ

Published : Thursday 15-July-2021 22:04:45 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ১০:০২:২৪ am

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুর থানায় মায়ের বিরুদ্ধে আবু রায়হান বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে। মা রওশনারা বেগম (৩৮) সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয়ায় সন্তান বাড়িতে তালা দিয়ে চাচার বাড়িতে থাকে। সে এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।

কেশবপুর থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ছোট পাথরা গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের পুত্র আবু রায়হান (২০)। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মাতা রওশনারা বেগমের পরকীয়া প্রেমের কারণে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এক পর্যন্ত ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই মা রওশনারা পরিকল্পিতভাবে খাবারে বিষ দিয়ে পিতাকে হত্যা করেছে। পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পরেই মা তার প্রেমিক কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের আ. রহিমের পুত্র মনিরুল ইসলাম (৪৫) কে বিয়ে করে চলে যায় এবং বিভিন্ন সময়ে আবু রায়হানের মা একাধিক নাম্বার দিয়ে ফোন করে তার পিতার বসত ভিটা ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। তাতে সে রাজী না থাকায় সন্তানকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

আবু রায়হানেরা দুই ভাই বোন। ইতোমধ্যে মা তার বোনের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্য অংশ হতে সাড়ে ১১ শতক জমি দলিল করে নেয়। দলিলের মধ্যে বসতভিটার অংশ না থাকলেও দলিল বুনিয়াদে সন্তান আবু রায়হানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে মা দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি গত ৫ জুলাই বিকেলে রওশনারা ও বর্তমান স্বামী মনিরুল ইসলামসহ একদল ভাড়াটিয়া গুন্ডা নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর করতে থাকে। সন্তান তার চাচাদের সহযোগিতায় বাধা দিলে তারা আবারও সন্তানকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। আবু রায়হান একা হওয়ায় প্রাণের ভয়ে বসতবাড়িতে তালা দিয়ে তার চাচা সাবেক ইউপি সদস্য মো. আহসান উল্লাহর বাড়িতে থাকে। আবু রায়হানের ৬ চাচা ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে  বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ করেছে।

আবু রায়হানের চাচা সাইফুল্লাহ বলেন, তার ফুলের মতো দুটি সন্তান থাকতে ভাইকে হত্যা করে প্রেমিকাকে বিয়ে করে। আর এখন মেয়ে সুমায়া সুলতানা (১৮) কে বিয়ে দিয়ে সন্তানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

এব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন বলেন, আবু রায়হানের একটি অভিযোগ পেয়েছি যা খুব হৃদয় বিদারক। একজন পুলিশ অফিসারকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 



সর্বশেষ সংবাদ
আরও খবর