ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

কালীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর অভিযোগ

Published : Wednesday 01-September-2021 21:33:09 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৮:৫৯:২৬ pm

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: মিজানুর রহমান নামে এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার অত্যাচারে অতিষ্ট কালীগঞ্জের আলাইপুর গ্রামের ৩৫ ঘর সংখ্যালঘু পরিবার। সে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী পুরুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। নারী নির্যাতনকারী ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার কবল থেকে রেহায় পেতে গ্রামবাসী মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে এক লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই গ্রামের সংখ্যালঘু দাস সম্প্রদায়ের ৫ ব্যক্তি সাক্ষরিত কপির অনুলিপি জেলা পুলিশ প্রশাসন ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রেসক্লাবে দেয়া হয়েছে।  

আলাইপুর গ্রামের সংখ্যালঘু দাস সম্প্রদায়ের পক্ষে দেবেন দাসসহ ৫ জন সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তাদের গ্রামে ৩৫ টি সংখ্যালঘু পরিবারে প্রায় ১৫০ মানুষ বসবাস করেন। যারা বর্তমানে খুবই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন। ১ নম্বর সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও পাশর্^বতী আলুকদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের মানুষ অতিষ্ট করে তুলছে। সে বিভিন্ন সময়ে তাদের পাড়ায় প্রবেশ করে মহিলাদের তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেন। অনেক সময় মহিলাদের ভয় দেখিয়েও ব্যবহার করেন। কোন প্রতিবাদ করলেই মারপিট করে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, আলাইপুর গ্রামের অমরেশ কুমারের স্ত্রী অনিতা রানীকে নানা সময় মিজানুর রহমান ব্যবহার করে আসছে। স্বামী হয়ে যার প্রতিবাদ করতে পারেনি অমরেশ। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে স্ত্রী অনিতা বাবার বাড়ি চলে যান। মিজানুর রহমান সেখান থেকে অনিতাকে ফিরিয়ে আনতে চাপ দিতে থাকে পরিবারকে। এক পর্যায়ে ২৫ আগস্ট রাতে অমরেশকে গ্রামের কালীতলায় নিয়ে যাই। সেখানে ধারালো অস্ত্র গলায় ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে বলে স্ত্রী অনিতাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবি নইলে লাশ হয়ে যাবি। এ অবস্থায় মিজানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অমরেশ কুমার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর মিজানুর ওই বাড়িতে আবারো যাতায়াত শুরু করে। বর্তমানে তার অত্যাচারে পাড়ায় বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। রাত হলেই ভয় ও দিনের বেলায় মিজানুরের দৃষ্টি থেকে যুবতি মেয়েদের আর অল্পবয়সের গৃহবধূদের আড়াল করে রাখতে হয়।

দাসপাড়ার বুলু রানী দাস নামে এক নারী বলেন, মিজানুরের ভয়ে আমরা কোন রকম কথা বলতে পারি না। তার ভয়ে কোনো কিছু স্বীকার করতেও পারি না। মিজানুরের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের বিটাদের (পুরুষ) তুলে নিয়ে যাবে। তারা রাতে কাজ করে বাড়িতে আসে। এসব ভয়ে আমাদের খাওয়া-ঘুম নেই।

আলাইপুর গ্রামের দেবেন দাস জানান, এখানে বসবাস করার মতো নেই। মিজানুর রহমানের ভয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। আমাদের যে কি হবে উপর আল্লাহ জানে। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

আলাইপুর গ্রামের বৃদ্ধা গিরিবালা দাস বলেন, তার ছেলেকে বিভিন্ন সময় মারধর করে। একদিন ঠেকাতে গেলে মিজানুর আমাকেও মারধর করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেরে ফেলার হুমকি দেয় মিজানুর, এই ভয়ে আমরা কোথাও অভিযোগ দেয়নি।

অভিযুক্ত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি সত্য নয়। স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে তিনি দাসপাড়ায় গিয়েছেন এবং ঘটনার বেশ সত্যতা পেয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন জানান, একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখবেন বলেও জানান।