ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ● ২ কার্তিক ১৪২৮

কালিগঞ্জে অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা ও ভ্রুণ হত্যার ঘটনায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা

Published : Sunday 27-June-2021 21:10:08 pm
এখন সময়: সোমবার, ১৮ অক্টোবর , ২০২১ ০০:৩৭:১০ am

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসমা খাতুন বিথী (২৪) এর একটি মোরগ প্রতিবেশী শেখ আব্দুল হাদীর ছেলে আমিরুল ইসলামের বাড়িতে গেলে মোরগটি আটকে রাখেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মোরগ আটকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ওই বাড়িতে কাজের মহিলাকে পাঠালে মোরগ দিতে অস্বীকার করে মোরগ নেয়ার জন্য আসমা খাতুনকে যেতে হবে বলে জানায় আমিরুল ইসলাম। বাধ্য হয়ে আসমা খাতুন আমিরুল ইসলামের বাড়িতে গেলে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় আত্মরক্ষার্থে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীর এগিয়ে আসলে ঘরের ভিতর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হোচট লেগে পড়ে যেয়ে তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা পান দু’মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা আসমা খাতুন বিথী। এঘটনায় আসমা খাতুন বিথী বাদী হয়ে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে পিটিশন মামলা দাখিল করেন (নং ২৭৮/২১, তারিখ: ০৭/০৬/২০২১ খ্রি.)। বিজ্ঞ বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-০৩) এর ৯ (৪) (খ) ধারার অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরা ডিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসমা খাতুন বিথীকে গত ১২/০৬/২১ তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসক তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওই গৃহবর্ধর ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান চিকিৎসক। এঘটনায় আসমা খাতুন বিথী বিজ্ঞ কালিগঞ্জ আমলী ০২ নং আদালতে গত ১৬/০৬/২১ তারিখে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন যার নম্বর সিআর ২১৮/২১ (কালিঃ)।

উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চাকুরি করার সুবাদে দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন বলে জানা গেছে। তার নিজেরসহ ৬ ভাইবোনের গরুর খামার না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া গরুর খামার দেখিয়ে সুদবিহীন সরকারি ঋণ নিয়ে জমি ক্রয় করেন। এছাড়াও এলাকার নিরীহ অসহায় নারীদের গরু, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার করিবার জন্য সরকারি লোনসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সম্ভ্রনহানী করে বলে সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরাবর এক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১২/০৯/০১২ তারিখে এক গৃহবধূর ঘরের ভিতর প্রবেশ করে নগদ টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছিল। তাছাড়া শেখ আমিরুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজেকে সভাপতি নির্বাচিত করিয়েছেন। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র অভিভাবক শেখ আতাউর রহমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেখ আমিরুল ইসলাম বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গৃহবধূর স্বামীর সাথে আমার বিরোধ চলছে। যার সূত্রধরে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিন আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।  তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।