ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

কলারোয়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার মামলার রায় ২৯ আগস্ট

Published : Thursday 26-August-2021 22:15:24 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ১৯:১২:২১ pm

শাকিলা ইসলাম  জুঁই, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চাঞ্চল্যকর পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়েসহ একই পরিবারের চার জনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার মামলায় আগামী ২৯ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। জেলায় চাঞ্চল্যকর এই ফোর মাডার ঘটনায় মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বাদী এবং আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এই রায় ঘোষণার নিধারিত দিন ঘোষণা করেছে আদালত।

সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান ওই আদেশ দেন। এ মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের পিপি এড. আব্দুল লতিফ যুক্তিতর্ক শেষে একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মুত্যুদন্ড কার্যকরের দাবির পাশাপাশি আসামি পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এস এম হায়দার আসামিকে বেকসুর খালাস দাবি করেছেন আদালতের কাছে।

মামলার নথি ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান (৩৬) বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে খাওয়া দাওয়া করতো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোন কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তালাক দেয় রায়হানুর রহমানকে। সংসারে টাকা দিতে না পারায় শাহীনুরের স্ত্রী দেবর রায়হানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতো। এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০) ভাবি সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয় এর সাথে ঘুমের বাড়ি খাওয়ায়। এরপর ভোর চারটার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ সময় তাদের ৪ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে তাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শ্বাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃত রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামি রায়হানুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ জানান, মামলার বাদী ময়না খাতুন, হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক ইসরাফিল হোসেন, কনস্টেবল সোনিয়া আক্তার, জব্দ তালিকার সাক্ষী সিআইডি’র সাতক্ষীরার পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম, সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাসিরউদ্দিন, বিচারিক হাকিম বিলাস কুমার মন্ডল, বিচারিক হাকিম রাকিবুল ইসলাম ও তদন্তকারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামসহ মোট ১৭ জনের আদালতে সাক্ষ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২২ আগষ্ট সকল সাক্ষীদের সাক্ষ গ্রহণ শেষে সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান আগামী ২৯ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, আড. মো: ফরহাদ হোসেন ও আড. মোস্তাফিজুর রহমান জগলু এবং তাদেরকে সহায়তা করেন সিনিয়র আইনজীবী এসএম হায়দার। এদিকে নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে।



আরও খবর