ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ● ১২ কার্তিক ১৪২৮

আশাশুনিতে নবজাতককে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

Published : Saturday 17-July-2021 21:40:38 pm
এখন সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর , ২০২১ ২২:৩৪:০৯ pm

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি ব্রিজের নিচে বেতনা নদীর চরে হত্যার উদ্দেশ্যে নবজাতককে ছুড়ে ফেলে দেয়ার পর শিশুটি মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান বাদী হয়ে এজাহার দিলে বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় আশাশুনির নবজাতকের পিতা-মাতা ও ক্লিনিকের মালিক শাহিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

জানাগেছে, উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের মিলন মন্ডলের স্ত্রী দিপিকা মন্ডলকে সন্তান প্রসবের জন্য সোমবার বুধহাটা বাজারের আলোচিত জনসেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজার করার পর বিকলাঙ্গ কন্যা সন্তান প্রসব হলে দীপিকার অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে গুণাকরকাটি ব্রীজের উপর থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫ ঘন্টার পর নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সাথে দিপিকার মা উর্মি রানী, বাবা সন্দীপ সরকার, ক্লিনিকের মালিকপক্ষ এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

জনসেবা ক্লিনিকের নার্স নার্গিস বলেন, সিজারের পর সেখানে পুরুষ লোক না থাকায় দিপিকাকে সাতক্ষীরা নিতে পারেনি। সকালে নিয়ে যাবে বলেছিল। সকালে তিনি ক্লিনিকে গিয়ে দেখেন শিশুটি নেই। তবে কোন পুরুষ ছাড়া কিভাবে রাতে ওই বাচ্চা বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো?  বন্ধ গেট কে খুলে দিলো? গর্ভের ফুল ও অন্যান্য আবর্জনা কিভাবে বেতনা নদীর চরে পাওয়া গেল? তার কোনো উত্তর মেলেনি।

ক্লিনিকের মালিক ডা. শাহিনুর জানান, নার্স রোগীকে ভর্তি নেয়। জনৈক পল্লী চিকিৎসক কৃষ্ণ’র পাঠানো রোগি ছিল সে। আল্ট্রাসনো রিপোর্টে বাচ্চা বিকলাঙ্গ বলে জানাছিল। জেনে বুঝেই সিজার করা হয়। বাচ্চা অসুস্থ থাকায় সাতক্ষীরা হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে না নিয়ে মেরে ফেলানোর ঘটনা তার জানা নেই। বাচ্চা কোথায় ও কেমন আছে সে খবর কেন নেননি? একই সময় একটি বাচ্চা নদীর চরে ফেলানোর ঘটনা জানার পরও কেন খোঁজ নেননি, পুলিশকে রিপোর্ট কেন করেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটির ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে। অচিরেই আসামিরা ধরা পড়বে। চরম অমানবিক ও ধিক্কার জনক ঘটনার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এলাকার সচেতন মহল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।



আরও খবর