ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ● ৭ কার্তিক ১৪২৮

আবারও মুখোরিত শিক্ষাঙ্গন

Published : Sunday 12-September-2021 22:50:33 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ২২ অক্টোবর , ২০২১ ০৯:১০:২৭ am

মিরাজুল কবীর টিটো: আঠারো মাস পরে রোববার খুলেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দিনের হিসেবে ৫৪৪দিন। এই দীর্ঘ বিতরতির পর শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চিরচেনা শিক্ষাঙ্গন। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেলেছে মুক্ত শ^াস। সেই সাথে সহপাঠীদের সাথে আবেগ আপ্লুত হয়ে আনন্দে মেতে উঠে সকল শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নেন। বরণ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন সাজে সাজানো হয়।

যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষকরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ফুল ও চকলেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। সেই সাথে ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কের ব্যবস্থা।  স্প্রে করে মুখে মাস্ক পরিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসের বেঞ্চে বসিয়ে পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক ও স্কুলের সভাপতি তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রম থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরার উপর জোর দেয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমন আশঙ্কা জনক নয়। করোনা ভাইরাসে সারাদেশে আমাদের জেলায়  কম। তারপরও এ বিষয়ে মনিটরিং থাকবে। আমরা চাই  আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা যেন আস্তে আস্তে পুষিয়ে দিতে পারি। এসময় বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম, জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন, বাংলাদেশ সরকারি শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা শিরিন সুলতানা জানান ছাত্রীদের বাইরে ও ক্লাস রুমে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবেশ মুখে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ছাত্রীদের ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। এছাড়া আইসোলেশন কক্ষ করা হয়েছে। কোনো সময় কোন ছাত্রী অসুস্থ হলে সেখানে নিয়ে আসা হবে। বেঞ্চে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মার্কিং করে বসানো হয়েছে। শহরে বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম।

শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের স্প্রে করেন, তাপমাত্রা মেপে ফুল ও কলম দিয়ে বরণ করে ভেতরে ঢুকিয়েছেন। অন্যনান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে ভেতরে ঢুকিয়েছেন। কলেজগুলোতেও শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। যশোর সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মজিদের নির্দেশনায় শিক্ষকরা, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড এম হাসান সরোওয়ার্দী সহ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী অহনা খালেক বলেন দীর্ঘ দিন পর স্কুলে এসে আনন্দ লাগছে। এতদিন করোনা ভাইরাসের কারণে বাড়িতে বন্দি ছিলাম। একাএকা লেখাপড়া করতে ভালো লাগতো না। অনেক দিন পর স্কুল খোলায় বন্ধুদের সাথে ক্লাস করতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন জানান, স্কুল খোলার প্রথম দিন চতুর্থ, পঞ্চম ও ২০২১ সালের এসএসসির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়েছে।

প্রতিনিধিরা স্ব স্ব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরেছেন-

মোংলা : সাজসজ্জা পরিবেশে ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে মোংলার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট পলস্ উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের আগমনকে ঘিরে বিদ্যালয়টির প্রাচীর, গেইট ও ভবনগুলো ব্যানার, ফুল এবং বেলুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। স্কুলের প্রবেশ পথে ওয়েলকাম ব্যাক টু স্কুল লেখা সম্বলিত বিশাল আলপনাও করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করেছে।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে নিরাপদ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শরীরের তাপমাত্রা মেপে এবং হাত ধুইয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে ঢুকতে দেয়া হয়। এ সময় তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর সকাল ৯টায় শ্রেণি কক্ষে নিয়ম মেনে ক্লাস নিতে শুরু করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তবে সেন্ট পলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন আয়োজন আর চোখে পড়েনি অন্য কোন বিদ্যালয়ে।

সেন্ট পলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রাদার জয়ন্ত এন্ড্রু কস্তা বলেন, সকল নিয়ম মেনেই আমরা শিক্ষার্থীদের গ্রহণ করছি। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই শ্রেণী কক্ষে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। অনেক দিন তাদের অনুপস্থিতি আমাদের উভয়ের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাদেরকে বরণ করতে নানা আয়োজন রয়েছে আমাদের। আমাদের এ আয়োজনে তারা ভীষণ খুশি ও আনন্দিত হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস,এ আনোয়ারুল কুদ্দুস বলেন, সরকারের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার মোংলায় ৭৩ টি প্রাথমিক, ৪১ টি মাধ্যমিক ও ৪টি কলেজ খুলেছে। সকল শর্ত মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে। কেউ তা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কয়রা (খুলনা): সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কয়রার বামিয়া এমএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে পাঠদান শুরু করা হয়েছে। রোববার এ উপলক্ষে এক রিওপেনিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি এইচ.এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. আওলাদ হোসেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানিজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় পুনরায় পাঠদান চালু করায় সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গোলাপ ফুল দিয়ে বরন করার পাশাপাশি মাস্ক প্রদান, বিনামুল্যে খাতা প্রদান করা হয়।এ ছাড়া প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ শ মাস্ক সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করেন। অপরদিকে কয়রা সদরের সরকারি মহিলা কলেজে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কলেজের পক্ষ থেকে সকল ছাত্রীদের মাঝে মাস্কসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন করা হয়। কপোতাক্ষ ডিগ্রি কলেজ ও খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পাঠদান শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝিনাইদহ: সকাল থেকে স্কুলের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের শরীরে তাপমাত্রা নির্ণয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান শেষে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ শফিয়ার রহমান জানান, প্রথম দিনে ১০ম, এসএসসি পরীক্ষার্থী, ৫ম শ্রেণি ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। স্বাস্থবিধি মেনে একটি বেঞ্চে ২ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে। এছাড়াও স্কুলের প্রধান গেটে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্কুলের পাঠদান করানো হচ্ছে। শহরের কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বলেন, স্কুল চালু করার জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় ক্লাসরুমসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনেই পাঠদান করানো হয়। এদিকে দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে ক্লাস করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নাঈম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক দিন পর আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আসতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে। স্যারদের সাখে দেখা হচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরুর হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরিদর্শন কালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করছে। প্রত্যেকে মাস্ক পরিধান করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা তা অনুসরণ করবে। আজকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও আশা করছি আগামীকাল থেকে পূর্বের মত শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া যাবে।

বাঘারপাড়া : বাঘারপাড়ায় স্কুল-কলেজ খোলার প্রথম দিনটি শুরু হয়েছে সচেতনতামুলক নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ মুখেই দেওয়া হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন। স্কুল-কলেজে আগত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে মাস্ক। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রতিটা কক্ষে গিয়ে সচেতনতা বিষয়ক সতর্কতা কার্যক্রম চালাচ্ছে।  রোববার সকালে বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ, মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা মাদরাসা, সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসা সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সতর্কতার অংশ হিসেবে শ্রেণি কক্ষে একটি বেঞ্চে দুইজন করে শিক্ষার্থী বসানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধির শর্তসাপেক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মুখেই মাস্ক থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সময় হাত-মুখ ধুয়ে প্রবেশ করতে হবে। এদিকে স্কুল-কলেজ খোলায় আনন্দে আত্মহারা শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকেই স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের ভিড় জমতে দেখা যায়। তবে স্বাস্থ্য বিধি মানায় নেই কোনো ঘাটতি । সবার মুখে মুখে ছিল মাস্ক। বাঘারপাড়া সিদ্দিকীয় ফাজিল মাদরাসার এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিক উদ্দীন জানায়, দীর্ঘ আঠারো মাস পর মাদ্রাসায় প্রবেশ করলাম। সব বন্ধুরা এক সাথে মাদ্রাসায় এসে খুব ভালো লাগছে। তাছাড়া আমারা সবাই সরকারের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই চলছি।  বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, দীর্ঘদিন পর আবারো কলেজের পুরানো জৌলুস ফিরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে কলেজ প্রাঙ্গন। তারপরও কিছুটা করোনা আতঙ্ক থেকেই গেছে। এজন্য কলেজে প্রবেশ পথে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য বেসিন দেওয়া হয়েছে। আগত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে মাস্ক দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটা শ্রেণি কক্ষে যেয়ে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।  

বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান বলেন, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে করণীয় সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়েছে।

মাগুরা : বেলুন-রঙিনকাগজ দিয়ে স্কুল সাজিয়ে, কোথাও কোথাও কেক কেটে, আবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে মাগুরার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বাস্থবিধি মেনে মাগুরায় রোববার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেছে শিক্ষার্থীরা। প্রথমদিনে প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে এ সময় শিক্ষা বিভাগ, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরিদর্শন করেন। সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ব্রজেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, তার অধীনে থাকা ২৭টি বিদ্যালয়কে শিশুদের আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্কুলে ফেরাকে স্বাগত জানাতে কেক কাটা, বেলুনসহ রঙিন কাগজ দিয়ে স্কুল সাজানো এমন নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শিশুরা একটি ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে এসব শিশুদের দুয়েকজনের হয়তো আপনজনও করোনায় মারা গেছেন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে বিদ্যালয়ের প্রথম দিনটিকে আনন্দঘন করার প্রয়াস পেয়েছি আমরা। আমার বিশ্বাস এর ফলে শিশুরা স্কুলে লেখাপড়ায় আরও মনযোগী হবে এবং এ দেড় বছরের গ্যাপ পূরণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে আমরা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাকে কড়াকরীভাবে পালনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছি।  এদিনে, জেলার গ্রাম ও শহর পর্যায়ের কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন শেষে সদ্য সাবেক প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হাসান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাম ও শহরের শিক্ষা বৈষম্য দূর করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমার পরামর্শ হলো, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী নিজ নিজ স্কুলের শিশুদের নিয়ে পৃথক যাচাই বাছাই করে এই ক্ষতি পূরণের জন্য নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।  সে মোতাবেক পৃথক পৃথক ভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কর্মপরিকল্পনা নিলে এ ক্ষতিপূরণ সম্ভব। বর্তমান পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং মাগুরা জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মেন্টর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত  জনাব হাসান বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে শিক্ষায় ব্যবধান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় দ্রুত এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব হবে। মাগুরা স্টেডিয়াম পাড়ার ব্রাইট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুকুর রহমান বলেন, প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদেও উপস্থিতি ভালো। স্কুলে এসে শিক্ষার্থী খুবই খুশি। দীর্ঘদিও বাড়িতে থাকার পর শিক্ষার্থীরাদেও পড়াশুনায় বিকাশ ঘটেনি। আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছি ।

ফুলতলা (খুলনা) : ফুলতলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবেশপথে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক পৃথক হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা। তাপমাত্রা মেপেই শিক্ষার্থীদের ভিতরে প্রবেশ করান প্রতিটি প্রতিষ্ঠান । ক্লাস রুমেও শতভাগ শিক্ষক শিক্ষার্থী ছিল স্বাস্থ্যবিধির আওতায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। কলেজ শিক্ষার্থী ইভা রহমান জানায়, এতদিন পর কলেজে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। করোনার কারনে অনলাইনে ক্লাস করে অনেক কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু সশরীরে ক্লাসে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবো। গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্কুল কার্যক্রম শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধের পর প্রথম দিনের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা ছিলো খুবই আনন্দিত। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির বলেন, এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষকদের সাথে নিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনা শতভাগ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। বিগত দিনের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ফুলতলা এম এম কলেজ অধ্যক্ষ শেখ মিজানুর রহমান জানান, উৎসবমুখোর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাদের পাঠদান করানো হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম জানান, প্রথমদিনে ৯টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। মাধ্যমিকে উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে উপস্থিতি ছিলো কিছুটা কম। তবে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।  

কেশবপুর : কেশবপুর উপজেলার ২৯৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রতিষ্ঠানে ছিলো উৎসব মুখোর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের পদভারে ক্যাম্পাস ছিলো উচ্ছ্বসিত। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সকল প্রতিষ্ঠানে ছিলো শতভাগ নিশ্চিত।

কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় প্রাথমিক জুনিয়র ও মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ২৯৯ টি। এর মধ্যে জুনিয়ার ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭২ টি, মাধ্যমিক মাদ্রাসা ৫২ টি, উচ্চ মাধ্যমিক ১১ টি, ফাজিল মাদরাসা ৫ টি, কামিল মাদ্রাসা ১ টি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫৮ টি।

রোববার সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কালে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে সাবান পানি হ্যান্ডস্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। শতভাগ শিক্ষার্থী মাস্ক ব্যাবহার করেছে। বহুদিন পর শিক্ষার্থীদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে সহপাঠীদের পেয়ে তারা ছিলো উচ্ছ্বাসিত। কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাক আব্দুল মান্নান জানান, সকল শ্রেণিতে ক্লাস নেয়ার বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সরকারি বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করেছে।

মণিরামপুর : মণিরামপুরে সকাল সাড়ে ৯টা বাজতে না বাজতেই স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেন বুকভরা আনন্দ নিয়েই সহপাঠী ও প্রিয় শিক্ষকদের সামনে হাজির হয়েছে। শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ের প্রাণ শিক্ষার্থীদের বরণ করতে আনন্দের কমতি ছিলো না। দেড় বছর পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এক মিলন মেলায় রূপ নেয়। 

 খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা তার বিদ্যালয় পৌঁছানো মাত্রই প্রিয় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর হাতে মাস্ক তুলে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধির সর্তক বার্তা জানান দেয়। এরপর শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন শিক্ষকরা। ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় গুলোতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিধিমত তিনটি করে ক্লাসও নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্লাস গুলো ফলো করা হয়েছে রুটিন মাফিক। গোপিকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম রায় জানান, শিক্ষার্থীরা যেন স্কুলে এসেই ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। যথারীতি সকাল ১০টা বাজতেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে যেতেই ঘন্টার আওয়াজ বেঁজে উঠে। পাঠদান করানোসহ এ্যাসাইরমেন্ট গ্রহণ করা ও দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক আলম জানান, তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ নতুন পোষাকে বই খাতা নিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে পৌছুয়েছে। শিক্ষকর ও সহপাঠিদের বরণ করতে শিক্ষার্থীরা হাতে হাতে এনেছে বিভিন্ন রকমের ফুল। শিক্ষকরাও প্রিয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে বরণ করেছে। তাদের দীর্ঘদিনের না দেখার সময়গুলোর খোঁজ খবর নিয়েছেন শিক্ষকরা। এরপর যথানিয়মে পাঠদান চলে রুটিন মাফিক। গতকাল বিদ্যালয় খোলা শুরুতেই সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, বিদ্যালয় খুলে দেয়ায় দায়িত্ব নয়। বিদ্যালয় গুলোতে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রধানগণ কতটুকু তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

দাকোপ : স্কুল খোলার প্রথম দিন দাকোপে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ্বাস বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও গাছের চারা রোপণ করেন। বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা সদরের চালনা কেসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক ও চকলেট বিতরণ করেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে মুজিব কর্ণার, আইটি রুম ও শিশু কর্ণার পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারিকেল গাছের চারা রোপন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে সম্মানিত অতিথি হিসাবে ছিলেন নির্বাহী অফিসার পতিœ জ্যোতি বিশ্বাস। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম, শিক্ষক প্রীতিষ চন্দ্র বিশ্বাস, আঞ্জুমানারা বেগম, কানু কুমার চন্দ্র, পিযুশ কান্তি মজুমদার, দিপালী রাণী বিশ্বাস, রনজিত রায়, দীপ্তিকা রায়, কৃষ্ণপদ বিশ্বাস,  মলয় রায়, কার্তিক চন্দ্র সরকার, কৃষ্ণা বিশ্বাস, সুমাইয়া খাতুন, শিপ্রা রানী দত্ত। পরিদর্শনকালে শিক্ষাঙ্গনে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরন করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে পাঠদানের ব্যবস্থা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দেবহাটা :  সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মেনে রোববার ১২ সেপ্টেম্বর, ২১ থেকে ক্লাশ শুরু হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা অন্যতম অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস ছুটির পর স্কুল কলেজে আসা একটা অন্যতম আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক্লাশ শুরুর প্রাক্কালে শিক্ষকদের মধ্যেও খুবই আনন্দ পরিলক্ষিত হয়। দেবহাটার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে সরকারি কেবিএ কলেজ হাজী, কেয়ামউদিন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজ, দেবহাটা কলেজ, দেবহাটা অষ্টম শ্রেণি উপনীত একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান সখিপুর দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সখিপুর মাধ্যমিক হাইস্কুল, পারুলিয়া গার্লস স্কুল ও এসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টাউনশ্রীপুর শরৎচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়সহ সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারী বিধিমালা মেনে চালু করা হয়। সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন, প্রধান শিক্ষক তৈয়েবুর রহমান, সরকারি কেবিএ কলেজের রোভার স্কাউট টিচার আবু তালেব, অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন, হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম, সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলাম, দিঘীরপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ আল আজাদ, প্রধান শিক্ষিকা শেফালী ব্যানার্জিসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকমন্ডলী শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশের মুখে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কাজ করেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরও খবর