ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ● ৯ কার্তিক ১৪২৮

আগস্টে বেনাপোল বন্দরে রেলে পণ্য আমদানি ২৩ হাজার মেট্রিক টন

Published : Thursday 16-September-2021 22:25:25 pm
এখন সময়: সোমবার, ২৫ অক্টোবর , ২০২১ ০৫:০৭:২৩ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল দিয়ে রেলপথে বেড়েছে ভারত থেকে পণ্য আমদানি। গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল রেলপথে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৯ মেট্রিকটন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এসময় রেল ভাড়া বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

এরআগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছিল আট কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

আর চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ২২ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন। এসময় রেল খাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৯ টাকা। এর আগে অর্থবছরটির জুলাই মাসে পণ্য আমদানি হয় ৩৯ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন। ওইমাসে রেলে রাজস্ব আসে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৭৭ হাজর ৬৯ টাকা।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি, রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, স্থলপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বনগাঁ কালিকতা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের কাছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিরিয়ালের নামে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতো। করোনা শুরুতে তাদের অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গতবছরের ৪ জুন থেকে সরকার রেলে সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাণিজ্যের অনুমতি দেয়। খরচ সাশ্রয় আর নিরাপদ হওয়ায় দিন দিন ব্যবসায়ীরা রেলপথে বাণিজ্যে ঝুঁকতে থাকে। আগে মাসে ৪ থেকে ৫টি ওয়াগানে পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং প্যার্সেলভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব আয়ে লাভবান হচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছিল। এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটা সিন্ডিকেট মুক্ত। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এবছর আমদানি বাড়ার পাশাপাশি রেলখাতে সরকারের চারগুন রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো: আজিজুর রহমান বলেন, কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরু হওয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ যেমন কমেছে তেমনি নিরাপত্তাও বেড়েছে। ভারত থেকে স্থলপথের পাশাপাশি রেলযোগে মালামাল এলে দেশের রেলখাতেও উন্নয়ন হবে।  যে সকল রেল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসে পরে তা খালি ফিরে যায়। এসব খালি রেলে যাতে বাংলাদেশি রফতানি পণ্য ভারতে পাঠানো যায় তার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে খরচ সাশ্রয় ও দ্রুত পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাবে।

রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশন মাস্টার মো: শাহিদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথেও পণ্য আমদানি হচ্ছে। তবে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে বেনাপোল থেকে পেট্টাপোল পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সম্প্রসারণ কাজ। এসব কাজ শেষ হলে এপথে বাণিজ্য আরো বাড়বে। আগে রেলপথে পাথর ও জীবসাম জাতীয় পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে গার্মেন্টস, কেমিক্যাল ও খাদ্যদ্রবসহ সব ধরনের পণ্য আসছে।